দেশের সীমানা পেরিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জের আলু। বিদেশে আলু রপ্তানি হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষক। এই এলাকার আলু দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও আলু বাছাই ও প্যাকেট করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার ৭ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আলু চাষি ওমর ফারুক বলেন, আমি এ বছর ১১ বিঘা সানসাইন ও কুমারিকা জাতের আলু চাষ করেছি। আলু চাষে এ বছর আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আলু বিক্রি করেছি ১৩ লাখ টাকার মতো। তবে গতবারের চেয়ে আলুতে স্প্রে, কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়েছে তাই খরচও একটু বেশি হয়েছে। তারপর এ বছর আমাদের এলাকায় থেকে আলু বিদেশে যাওয়ায় আলুর ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। ফলে লাভ হয়েছে পর্যাপ্ত।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে আল চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল ৯ হাজার ৫৬০ হেক্টর যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ব্যাপক হারে আলু চাষ হয়েছে এবং দাম ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছে আলু চাষিরা। বিশেষ করে এ বছর উপজেলায় আলুবাড়ী নামক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে সানসাইন ও কুমারিকা জাতের আলু রপ্তানি করছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি আলু ক্রয় করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি করছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এই উপজেলা হতে ২৪৩ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে সানসাইন, কুমারিকা জাতের আলু অন্যতম। আলু রপ্তানিতে কৃষকরা বাড়তি দাম পাচ্ছেন এবং আলুর চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।