বগুড়ায় বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে এলাকাসী

বগুড়ার শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোররা সন্ধ্যার পর দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে নিয়মিত রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করে, ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারামারি, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, মাদক সেবন, দোকানে-দোকানে ঘুরে চাঁদা দাবিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন এবং এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এছাড়া উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা ব্রিজের উপর মোটরসাইকেল রেখে আড্ডা দিতে দেখা যায় কয়েকজন বখাটে ছেলেকে। অতঃপর জামাল নামের একজন পথচারী রাস্তা ছেড়ে দাঁড়ানোর কথা বলতেই তার ওপর আক্রমণ করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গত এক মাসে তুচ্ছ ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা আহত হয়েছে ২০-২৫ জন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোনো ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার সাহস পায়নি ভুক্তভোগীরা। 

একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গ্যাংয়ের এক সদস্য এসে টাকা দাবি করছেন। টাকা না দিতে চাওয়ায় হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে দোকানির মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে কিশোর গ্যাংয়ের ওই সদস্য। একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল কিশোর গ্যাংয়ের অন্য সদস্যরা। আশপাশের অন্যান্য দোকানিরাও এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান। 

উপজেলার ধুনটরোড এলাকার বাসিন্দা হারুন বলেন, ‘এলাকায় ইদানীং চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মোবাইল চুরি হচ্ছে বেশি। দিনের বেলায়ও বাসা-বাড়ির জানালা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। আমাদের প্রতি মুহূর্তে চোর ও কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কে থাকতে হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন বলেন,  কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে বরাবরই কঠোর অবস্থানে থাকে থানা-পুলিশ। উল্লেখিত স্পটগুলোতে খুব শিগগিরই টহল জোরদার করা হবে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বলব এমন কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বা অপরাধ দেখামাত্র আমাদের জানাবেন। আপনাদের নাম-পরিচয় গোপন রেখেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ যেসব কিশোর অপরাধে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।