চট্টলার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে

সাঈদুর রহমান মিন্টু। গত ১২ বছর ধরে এইচআর ও অ্যাডমিনে কাজ করছেন। সেই সঙ্গে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন আরেফীন দীপু

বেড়ে ওঠা

বাবা মায়ের ইচ্ছে ছিল আমাকে মেডিকেলে পড়াবেন, যার জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছি। বাবা একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আমিই বড়। ইন্টারমিডিয়েটের পরীক্ষার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান ও কলা অনুষদে মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল থেকে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করি।

ক্যারিয়ার শুরু হলো যেভাবে

আমি ক্যারিয়ারের শুরু করি নিট গার্মেন্টস শিল্পে চট্টগ্রামের ফোর এইচ গ্রুপের এইচ আর কমপ্লায়েন্স ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে। যার জন্য আমাকে এইচআরএমএ আবার এমবিএ করতে হয়। এইচআরএমএ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এইচআরএমএ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিজিএমইএ-এর চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করতে হয়।

তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরামর্শ

তরুণ প্রার্থীদের প্রতি আমর পরামর্শ থাকবে যতদিন সরকারি চাকরির বয়স থাকবে ততদিন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতায় চাকরির জন্য চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির জন্য ইংরেজি ভাষায় লিখতে এবং বলতে পারার দক্ষতা অর্জন এবং একই সঙ্গে কম্পিউটারের অফিস ম্যানেজমেন্টের ওপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কোনোভাবেই ব্যর্থতার কারণে হতাশ হওয়া যাবে না। প্রতিবার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে পারলেই তুমি যথাযথভাবে সফলতার পথ তৈরি করতে পারবে। হতাশা দূরীকরণের জন্য শরীর চর্চা এবং হালকা কায়িক পরিশ্রম ভালো উপকার দিয়ে থাকে। প্রযুক্তির যথোপযোগী ব্যবহারের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।

চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য চিন্তাভাবনা

ছাত্র জীবন থেকে আমি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃৃতিক এবং আঞ্চলিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সবসময় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই ছিলাম। এরই মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়নের শিক্ষার্থীকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং ভবিষ্যত্ কর্মজীবন সম্পর্কে সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রদান করছি। যেন তারা ভবিষ্যত্ কর্মজীবনে অতি দ্রুত সফল হতে পারে। সেবামূলক সংগঠন লায়ন্স ক্লাব, সেখানেও শিক্ষার্থীদের জন্য উইং আছে, যারা লিও হিসেবে পরিচিত। সেখানে আমি সহ-সভাপতি। পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে, যেখানে আমি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বের আছি। আর এখন বৃহত্তর পর্যায়ে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী এবং তরুণদের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এই ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে আমরা বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে এগোচ্ছি।

নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা

নিজেকে একজন সফল মানবসম্পদ উন্নয়নের পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমি গত দীর্ঘ ১৩ বছর শুধুই কারখানাতে কাজ করেছি, যেখানে আমাদের সহজ-সরল শ্রমিকরা কাজ করে যারা তাদের অধিকার সম্পর্কে তেমন সচেতন না। তাই অনেক সময় তাদের মালিকেরা তাদের ঠকায়। সেখানে ন্যায় বিচারক ও নেতা হিসেবে কাজ করে একজন মানবসম্পদ ও প্রশাসনের প্রধান। সুতরাং মানব সম্পদ ও প্রশাসনের প্রধান যদি সত্, ন্যায় বিচারক ও কোম্পানিকে ভালোবাসে তবে সেই কোম্পানির যেমন শৃঙ্খলা বজায় থেকে উত্পাদন বাড়ে ও উন্নতি করে তেমনি কাজের মাধ্যমে একজন মানুষ হিসেবে মানবিক ভূমিকাও রাখা যায়।