এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব

বাড়তি নজর গোলরক্ষকদের ওপর

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ-২০২৬ বাছাই পর্ব খেলতে বর্তমানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। সফরের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পড়তে হয়েছে দলকে। তবে এর মাঝেও থেমে নেই প্রস্তুতি। প্রথম দিন মাঠে অনুশীলন না করলেও গেল দুই দিন ধরেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী করেছে কঠোর অনুশীলন। যেখানে টেকনিক্যাল দিক থেকে নিজেদের আরো শক্তিশালী করতে বিশেষভাবে কাজ হচ্ছে গোলরক্ষকদের নিয়েও।

এই বাছাইপর্বে বাংলাদেশ খেলছে 'সি' গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে স্বাগতিক মিয়ানমার, বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান। তিনটি কঠিন প্রতিপক্ষ সামনে রেখে দল গুছিয়ে নিচ্ছেন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগেই চলছে আলাদা মনোযোগে কাজ। মিয়ানমারের বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশ খেললেও প্রতিপক্ষ হিসেবে দলের কাছে নতুন বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান। আর তিন দলই বেশ শক্তিশালী। তাই ম্যাচে বাড়তি চাপ থাকবে গোলরক্ষকদের ওপর। সেই হিসেব করেই স্কোয়াডের গোলরক্ষকরা নিজেদের প্রস্তুতি সাড়ছেন।

গতকাল অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা বাফুফের দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, 'আমরা সবার কাছে দোয়া চাই। তিনটি ম্যাচই যেন ভালো খেলতে পারি। গোলরক্ষক হিসেবে আমরা দায়িত্ব গোল সেভ করা। দলের মনোবল চাঙ্গা রাখা সেটা পালন করে জিতেই দেশে ফিরতে চাই। কোচের নির্দেশনায় আমরা কঠোর অনুশীলন করছি।' ঐ বার্তায় দলের আরেক গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মন্ডল বলেন, 'তৃতীয় দিনের মতো অনুশীলন সেশন শেষ করেছি। সবাই সুস্থ আছি। কোচ যেখানে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেভাবে আমরা কাজ করছি। ২৯ তারিখ প্রথম ম্যাচ বাহারাইনের সাথে আমাদের লক্ষ্য ঐ ম্যাচে ভালো ফলাফল করা।'

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশ নিয়মিত উন্নতি করেছে। এর মধ্যে গেল দুই বছর তো জিতেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও। তবে এবার লক্ষ্য এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। আর এর জন্য দলকে বেশ কঠোর পরিশ্রমই করতে হবে। বিশেষ করে দলের গোলরক্ষকদের। 

এ বিষয়ে দলের গোলরক্ষক কোচ মাসুদ উজ্জ্বলের, 'আমরা মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে গত তিন দিন যাবৎ অনুশীলন করছি। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ম্যাচে আমাদের যে ধরনের টেকনিক-ট্যাকটিক্স দরকার সেগুলো নিয়েই কাজ করছি। বিশেষ করে এশিয়ান পর্যায়ে যে ধাঁচের পারফরম্যান্স দরকার আমি সেভাবে গোলরক্ষক রুপ্না ও অন্যদের তৈরি করছি। আশা করছি, আমরা ভালো কিছু করেই দেশে ফিরব।'