সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রানীর হাট বেরখালি সড়কে এলাকা যেন ডাকাতদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। সূর্য ডোবার পর ডাকাতির ভয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় এ সড়কে। বিশেষ করে রানীর হাট সড়ক বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী মহাসড়কের সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়। দিন ও রাতে অসংখ্য যানবাহন চলে এ সড়ক দিয়ে।
জানা গেছে, কদিন আগেও রানীর হাট সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ডাকাতির চেষ্টা করে। স্থানীয়রা বিষয়টি জেনে পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয়দের সচেতনতা ও পুলিশের প্রচেষ্টায় ডাকাতের দল ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়।
তাড়াশের মাসুদ রানা নামে একজন মাইক্রোবাস চালক বলেন, রানীর হাট সড়কের বেরখালি এলাকায় ডাকাত দল আমার গাড়ির যাত্রীদের ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। রাত পৌনে নয়টার দিকে ঘটে ডাকাতির ঘটনা। একই সঙ্গে আরও তিনটি মাছবাহী গাড়িতে ডাকাতি হয়।
ডাকাতির শিকার তাড়াশ ভিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান বলেন, বেরখালিতে ডাকাতের কবলে পড়েছিলাম। আমার আগে ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতি হতে দেখি।
তাড়াশ সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমিও বেরখালিতে ডাকাতের কবলে পড়েছিলাম।
অপরদিকে প্রতিবেদক নিজেও রানীর হাট সড়কের বেরখালিতে ডাকাতের কবলে পড়েন। ডাকাতের দল প্রাইভেটকার চালক লিটন চন্দ্র দাশকে হাসুয়া দিয়ে কোপ মারেন। তিনি সামান্য আহত হন। তারপর ৪৬ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। গাড়ির ভেতর একদম তছনছ করে ফেলেন আরও কিছু পাওয়ার আশায়। প্রায় দশ মিনিট সময় ধরে চলে ডাকাতি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার তালম ইউনিয়ন, বারুহাস ইউনিয়ন ও দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সংযোগস্থল বেরখালি। এলাকাটি গুড়পিপুল ও গুল্টা গ্রামের মধ্যেখানে। অনেকটা জনবসতিহীন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রানীর হাট সড়কের বেরখালি সেতু থেকে গুল্টা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে ডাকাতি হয়। সড়কের পাশের গাছ কেটে গাছের গুড়ি সড়কে ফেলে ডাকাতি করে।
উপজেলা নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, রানীর হাট সড়কের বেরখালি এলাকাতে যুগ যুগ ধরে ডাকাতি হচ্ছে। বহু বছরেও পুলিশ ডাকাত সদস্যদের আটক করতে পারেন নি। দৃষ্টান্তমূলক ও নজির স্থাপনকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে ডাকাতি বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে তাড়াশ থানা পুলিশ জানিয়েছেন, দুর্গম এলাকা রানীর হাট সড়কের বেরখালি। আশপাশের অদূরে কোনো জনবসতি নেই। ৫ আগস্টের পর ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। পরে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। ডাকাতিও কমে এসেছে।
তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। আগের তুলনায় ডাকাতি কমেছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, রানীর হাট সড়কে ডাকাতির বিষয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধে বেরখালি এলাকাতে সোলার লাইট স্থাপন করা হবে। বিধি মোতাবেক পুলিশ বক্স স্থাপন করা যায় কি না বিবেচনায় রয়েছে।