কেরানীগঞ্জে শপিং ব্যাগ তৈরির কারখানায় আগুন

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ‘আল্লাহর দান স্কীন প্রিন্ট’ নামে একটি শপিং ব্যাগ তৈরি কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফিজুর রহমানসহ আরও দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত হাফিজুর রহমানকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল হাসপাতাল ও দুই কর্মচারীকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

মালিক পক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকা আর উদ্ধার হওয়া মালামালের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা।

বেগুনবাড়ি এলাকার গৃহবধূ শিরিন আক্তার (৩৫) বলেন, সকালে রান্নাঘরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে দেখি কালো ধোঁয়া চারপাশে। তখন সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে নিচে নেমে আসি। 

তিনি আরও বলেন, আবাসিক এলাকায় এমন কারখানা থাকলে তো আমাদের জীবন সবসময় ঝুঁকিতে থাকবে। সরকারের এ বিষয়টি দেখা উচিত। 
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান ইসলাম (২৪) বলেন, চোখের সামনে আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল। লোকজন চিৎকার করছিল। ফায়ার সার্ভিস না এলে বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেতো। 

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের উচিত এমন কারখানাগুলোর ওপর কঠোর নজর রাখা, না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ হতে পারে।

বেগুনবাড়ি এলাকার দোকানি আলতাফ হোসেন (৫২) বলেন, এ কারখানায় অগ্নি নির্বাপণ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সেটি জানতাম না। যদি আগুন ছড়িয়ে পড়তো তাহলে আশপাশের মানুষের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতো। এ ধরনের কারখানা আবাসিক এলাকায় থাকা একদমই উচিত না।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজল মিয়া বলেন, সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আমরা ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। তৎক্ষণাৎ তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানাটিতে অগ্নি নির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ও রিজার্ভার ট্যাংক ছিল না। তাই আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে কারখানার যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।