টানা তিন সপ্তাহ সূচক বেড়েছে

ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেয়ার বাজার লেনদেনে গতি বেড়েছে

বিদায়ি সপ্তাহে দেশের শেয়ার বাজারে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এতে মূল্যসূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ সূচক বাড়ল। গত সপ্তাহে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনে গতি বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, বর্তমানে বাজারে অনেক ভালো শেয়ারের দাম এত কমেছে যে, তা বিনিয়োগের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনায় আগ্রহ বেড়েছে।

গত সপ্তাহের লেনদেনচিত্র পর্যালোচনায় এ চিত্র দেখা যায়। বিদায়ি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার ঘটনায় আতঙ্কে সূচকের পতনে লেনদেন হলেও পরের দিনই বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। এর পরের চার কার্যদিবসেই সূচক বেড়েছে। সপ্তাহ জুড়ে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসইতে) লেনদেনকৃত মোট কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৮টির, কমেছে ৩৬টির। এছাড়া ৮৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচক বাড়ে ৪৫ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে বাড়ে ৭১ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। এতে তিন সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ল ১৯৪ পয়েন্ট। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহ জুড়ে বাড়ে ২১ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে বাড়ে ১৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৭৩ শতাংশ। এছাড়া, বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহ জুড়ে বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১৩ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে বাড়ে ৩২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৮৯ শতাংশ।

সব কয়টি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩২৫ কোটি ৩৭লাখ টাকা; অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা; অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ৮২২ কোটি টাকা বা এক দশমিক ৬৬ শতাংশ। দেশের প্রধান এই শেয়ার বাজারে সপ্তাহ জুড়ে টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ দশটি কোম্পানি হলো: লাভেলো আইসক্রিম, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, বিচ হ্যাচারি, ফাইন ফুডস, অগ্নি সিস্টেম, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো এবং মিডল্যান্ড ব্যাংক। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ি সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৯.২২ পয়েন্ট বা ০.৯৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪০০ পয়েন্টে। সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেনও বেড়েছে। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৭৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর বিদায়ি সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকা; অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১০৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বিদায়ি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩২০ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর তার আগের সপ্তাহের লেনদেন শেষে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা; অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৭২০ কোটি ৩৭লাখ টাকা।