বিবাহবিচ্ছেদের হতাশায় চলন্ত মেট্রোতে আগুন দিলো বৃদ্ধ

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় চলন্ত মেট্রো ট্রেনে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর গভীর হতাশায় পড়ে এই চরম পদক্ষেপ নেন ওন নামের ওই ব্যক্তি। তার এই কর্মকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও অন্তত ১২৯ জন যাত্রীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে, আহত হন ২২ জন। খবর এনডিটিভি।

ঘটনাটি ঘটে শবিবার (৩১ মে)। সিউল শহরের ব্যস্ত মেট্রো ট্রেনে ওঠেন ওন। মেট্রোর সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, তিনি নিজের ব্যাগ থেকে একটি বোতল বের করেন, যাতে গ্যাসোলিনজাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিল। যাত্রীতে ঠাসা কামরার মধ্যে সেই তরল ছড়িয়ে দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনে, যাত্রীরা ছুটোছুটি শুরু করে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপরেই ওন সেই দাহ্য তরলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো কামরায়।

মেট্রোর ভেতরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন অনেকে। দগ্ধ না হলেও অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর ২২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওনকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দৈনিক দ্য চোসুন ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন কোরিয়ান ওন (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি) মূল্যের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে একটি সাবওয়ে কারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন, বিচ্ছেদের মামলায় হতাশ হয়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ওন। ৯ জুন পুলিশ তাকে প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। সিউল সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ওনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চলন্ত ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই বড় প্রমাণ হয়ে রইল।