অর্ধযুগেও চালু হয়নি ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম

রাঙ্গামাটিবাসীর চিকিৎসার একমাত্র বড় ভরসার স্থান জেলা সদর হাসপাতাল। কিন্তু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নির্মিত এ হাসপাতালের ভবনটিতে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি দীর্ঘ অর্ধযুগেও। যে কারণে আধুনিক চিকিৎসা সেবা এবং নানা রকম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। 

দু’বছর আগে ১১তলা বিশিষ্ট নির্মিত এই ভবনের ছয়তলার কাজ শেষ হওয়ার পর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। 

রাঙ্গামাটি গণপূর্ত অফিস জানিয়েছে, হাসপাতালের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নব নির্মিত ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে চিঠি পাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

জানা গেছে, পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে চালু হয় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‘রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতাল’। পরবর্তী সময়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কিছুটা সংস্কারের মাধ্যমে ১০০শয্যায় উন্নতি করে বর্তমানে প্রতিদিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে দু’শো থেকে আড়াইশো রোগীকে। বেড না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বেশিরভাগ রোগীদের। নতুন নির্মিত ভবনের কার্যক্রম শুরু না করায় আধুনিক চিকিৎসার কোনও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এ হাসপাতাল থেকে।

রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষরা জানায়, ২০১৯ সালে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান ভবনের পাশেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ১১তলা বিশিষ্ট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবন। হাসপাতালের নতুন ভবনে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস সুবিধা, উন্নত ল্যাব সুবিধা ও একাধিক অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থা থাকবে। ২৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবনটির ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

শুরুতেই ২০২৩ সালে ছয় তলা ভবনের কাজ শেষে নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও আজো শুরু হয়নি চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম। বর্তমান ভবনে গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে রোগীদের কষ্টের কথা জানালেন স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মরিয়ম বেগম বলেন, রাঙ্গামাটি বৃহৎ জেলা। এখানে দিনদিন লোক সংখ্যা বাড়ছে। লোক সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম সেই ভাবে আমরা পাচ্ছি না। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবনে সেবা কার্যক্রম শুরু হলে চিকিৎসা সেবা পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে।

রোগী ওমর আলী বলেন, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও বেড সুবিধা পায়নি। ফ্লোরে কোনরকমে থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছি। আমরা অতিসত্বর নতুন ভবনে সেবা কার্যক্রম চালুর করা জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।

রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা: শওকত আকবর বলেন, বর্তমানে আমাদের এ হাসপাতালটি ৫০শয্যার। তবে আমরা অনেক কষ্ট করে জোড়া-তালি দিয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতালের মতো করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি।

আরএমও আরও বলেন, গরমকালে প্রতিদিন দু’শো থেকে আড়াইশো রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। বেশির ভাগ রোগীদের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা বলেন, রাঙ্গামাটির সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা ভবন প্রকল্পের কাজ ডিপিপি অনুযায়ী শতভাগ সম্পন্ন ভাবে শেষ করা হয়েছে।  হাসপাতালটি সিভিল সার্জনকে বুঝে নিতে আমরা চিঠি প্রেরণ করেছি।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, আমি যতটুকু জানি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নব নির্মিত ভবনটি বুঝে নিতে একটি কমিটি গঠন করেছে। তারা ভবনের সার্বিক কিছু দেখে কোন অসুবিধা পেলে আমাদের জানালে আমরা তা সংস্কার করে দিব।

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, হাসপাতালের নব নির্মিত ভনটি বুঝে নিতে গণপূর্ত বিভাগ আমাদের চিঠি দিয়েছি। আমরা খুব শিগগিরই বুঝে নিবো। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছে এবং হাসপাতাল সেবা কার্যক্রম শুরু করার জন্য একটি ফাইল প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা কার্যক্রম চালু করতে পারবো।