জামালপুরের মাদারগঞ্জে সরকারি সড়কের জমি দখল করে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সড়ক বিভাগ (সওজ) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)—এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বদরুল আলম সর্দার, চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ভবনটি মাদারগঞ্জ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ থানা মোড় এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত ৩৩ ফুট জায়গা খালি রাখা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই নিয়ম অমান্য করে ‘বদরুল টাওয়ার’ নামে সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বদরুল আলম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভা থেকে রহস্যজনকভাবে ভবনের নকশা ও ডিজাইন অনুমোদন করিয়ে নেন। এলজিইডির মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ জে-৭ সড়কের উত্তর পাশে এবং সওজের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করা হলেও কোনো সংস্থা তাকে বাধা দেয়নি।
গোদা শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বদরুল এক সময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসার পাশাপাশি বিতর্কিতভাবে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন। স্থানীয়দের সন্দেহ, ঝুট ব্যবসার আড়ালে অন্য কিছু রয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করে, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোটি টাকার বেশি খরচ করে মনোনয়ন ও জয় নিশ্চিত করেন। বিএনপি নেতা আমগীর কবিরের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়ে নিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নিয়ে কেউ কথা বললে বদরুল আলম মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তা ম্যানেজ করে নেন। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছে।
জামালপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওজিশ রহমান বিশ্বাস বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সবাইকে জানাচ্ছি—সড়কের নির্ধারিত জায়গা (৩৩ ফুট) দখল করা যাবে না। কিন্তু কেউ মানছে না।”
চেয়ারম্যান পলাতক
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বদরুল আলম সর্দারকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ওই সময়ই সরকার তাকে বরখাস্ত করে ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।