সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-খোয়া, ঠিকাদার প্রতিনিধি বলছেন ‘ম্যানেজ করেই কাজ চলছে’

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ‘ম্যানেজ’ করে নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাব-ঠিকাদার মো. স্বজীব আহমেদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ক্লিনিক হতে গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। সরেজমিন পরিদর্শন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইটের বদলে ভঙ্গুর ও নিম্নমানের ইট, খোয়া ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সড়কের নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে ইউএনও উজ্জল কুমার হালদার সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং নিম্নমানের ইট-খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার এই নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা প্রকৌশলীকে ‘ম্যানেজ’ করে কাজ অব্যাহত রাখেন।

স্থানীয় কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এই সড়ক পাকা হবে। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা ছয় মাসও টিকবে না। ইট হাত দিয়ে ভাঙলেই গুড়ো হয়ে যায়।”

রায়হান, খলিলসহ আরও কয়েকজন বলেন, “সড়ক কেটে নিচু করা হয়েছে, এরপর রাস্তার পাশ থেকে কাটা মাটি ফেলে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। এতে এলাকাবাসী বাধা দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি।”

এপ্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. ফারুক উমর মিঠু বলেন, “উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে ম্যানেজ করেই কাজ করছি। কাজ কিছুটা নিম্নমানের হচ্ছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনও বাধা দেননি।”

সাব-ঠিকাদার মো. স্বজীব আহমেদ বলেন, “চারটি প্যাকেজের কয়েকটি কাজ আমি শেষ করেছি। কিছু অংশে একটু নিম্নমানের হয়েছে, তবে আমরা ঠিক করে নিচ্ছি। ম্যানেজ করার অভিযোগ ঠিক নয়।”

রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনছুরুল হক শুরুতে স্বীকার করেন, “কিছু নিম্নমানের ইট-খোয়া ছিল, যা পরে ঠিক করা হয়েছে।” তবে পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আপনি যা দেখছেন, তা-ই লিখুন। আমার বক্তব্য নিতে হলে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে।”

জানা গেছে, রৌমারী উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (জঅউঅজউচ)-এর আওতায় মোট ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১৭ টাকা ব্যয়ে ৪টি প্যাকেজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মূল ঠিকাদার বেলাল কনস্ট্রাকশন পরে কাজটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার ছেলেকে (স্বজীব আহমেদ) ‘বিক্রি’ করে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার বলেন, “অভিযোগ পেয়ে আমি পরিদর্শনে যাই এবং নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের সত্যতা পাই। আমি তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ ও নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি। তবে পরে কীভাবে আবার কাজ চলছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”