যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগে ইবি শিক্ষককে চাকরিচ্যুত

সমকামিতা ও নারী হেনস্তার অভিযোগে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত এবং কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির ধারা ৪(১) মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমকামিতা, যৌন হয়রানি, শিক্ষার্থী হেনস্তা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল খারাপ করে দেওয়া, ফেইক ফেসবুক আইডি থেকে নারীদের হেনস্থা, দাড়ি থাকলে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেনস্থা এবং ছাত্রলীগের মিছিলে যেতে বাধ্য করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। ওইদিন শিক্ষার্থীরা তার অব্যাহতির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন এবং উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে ২৭ দফা অভিযোগ পেশ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পায়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির ধারা ৪(১)(ন) ও (ব) মোতাবেক তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তবে ২৮ জানুয়ারি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ শাস্তি প্রত্যাখ্যান করে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রশাসন শাস্তি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের ২৬৭তম সভায় বিষয়টি পুনরায় তদন্তের জন্য নতুন এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বশেষ ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দীন বলেন, “প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আমরা বিভিন্ন নির্যাতন থেকে মুক্তি পেলাম। আমরা খুবই খুশি। ক্যাম্পাসে এমন অনেক হাফিজ আছে, আমরা চাই প্রশাসন তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনুক।”

এ বিষয়ে চাকরিচ্যুত হাফিজুল ইসলামকে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।