ইন্দো-প্যাসিফিকে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার আলোচনা করেছি: মার্কো রুবিও

ইন্দো-প্যাসিফিকে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় রক্ষায় কোয়াডের সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০২ জুলাই) ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। 

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও বলেন, কোয়াডভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একযোগে আমাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করেছি।’

কোয়াড জোটের চার সদস্য- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। নিয়মিতভাবে কৌশলগত এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করে থাকে। সাম্প্রতিক বৈঠকেও মূল আলোচনায় ছিল সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা।

সচিব রুবিওর এই বৈঠককে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার চীনের প্রভাব মোকাবিলায় কোয়াড জোটের বৈঠক হয়। এছাড়া জাপান বৈঠকের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটি বার্ষিক প্রতিরক্ষা বৈঠক স্থগিত করেছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চাপেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে টোকিও।

অন্যদিকে ভারত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পর্যটকদের ওপর হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য যুদ্ধ রুখতে ‘ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেছেন’ এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলছে নয়াদিল্লি।

কোয়াডের চার দেশ চীনের আধিপত্য ঠেকাতে একমত হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বজুড়ে শুল্ক আরোপ নীতিতে মিত্ররাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ব্যয়, এমনকি পারস্পরিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনে কোয়াডের সম্মিলিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অস্ট্রেলিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আচরণে উদ্বিগ্ন। দেশটিকে পারমাণবিক সাবমেরিন দিতে গঠিত আকুস প্রকল্প নিয়ে পেন্টাগনের তৃতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি পুনর্বিবেচনা শুরু করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে ক্যানবেরায়।

এদিকে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে গত ফেব্রুয়ারির শিগেরু ইশিবার সঙ্গে ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠকের পর থেকে গতি কমেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর ভারতবিষয়ক গবেষক রিচার্ড রসো বলেন, ট্রাম্পের ভারত সম্পর্কিত কৌশল কিছুটা অগোছালো হলেও দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত স্বার্থ অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে, ভারতের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদগুলো এখনও পূরণ হয়নি। রাষ্ট্রদূত নিয়োগ হয়নি, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।