তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ চালিয়ে আসা সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যদ্ধারা আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণ শুরু করবে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পিকেকে'র মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের সুলায়মানিয়া শহরে ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানটি হবে নিরস্ত্রীকরণের দিকে প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।
গত মে মাসে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ঘোষণা করে, তারা সশস্ত্র সংঘাত ভেঙে দেবে এবং সস্ত্র পরিত্যাগ করবে। এর মধ্য দিয়ে চার দশকের শত্রুতার অবসান ঘটবে।
১৯৯৯ সাল থেকে ইস্তাম্বুলের কাছে একটি দ্বীপে বন্দী পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওচালান ফেব্রুয়ারিতে তার দলকে একটি কংগ্রেস আহ্বান করে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ভেঙে ফেলা এবং নিরস্ত্র করার আহ্বান জানানোর পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
৭৬ বছর বয়সী ওচালান ২৫ বছরের কারাদণ্ড সত্ত্বেও কুর্দি আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য তার আহ্বান ১৯৮০ সাল থেকে কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে পিকেকে বলেছে, 'একদল গেরিলা যোদ্ধা পাহাড় থেকে নেমে আসবে এবং শান্তি ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তাদের সদিচ্ছা ঘোষণা করার প্রয়াসে তাদের অস্ত্রকে বিদায় জানাবে।'
পিকেকে'র মুখপাত্র জাগ্রোস হিওয়া বলেন, 'সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠান এবং আগ্রহী পক্ষের তত্ত্বাবধানে' যোদ্ধারা তাদের অস্ত্র ধ্বংস করবে। অংশগ্রহণকারী যোদ্ধার সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ২০ থেকে ৩০ জন হতে পারে।
এর আগে গত সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির মুখপাত্র ওমর সেলিক বলেছিলেন, পিকেকে কয়েক দিনের মধ্যে অস্ত্র হস্তান্তর শুরু করতে পারে।
সেলিক আরও বলেন, শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আগামী সপ্তাহে কুর্দিপন্থী দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন এরদোগান।
প্রসঙ্গত, পিকেকে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ইরাকের পাহাড়ে তাদের ঘাঁটি বজায় রেখেছে। তুর্কি বাহিনী ইরাকে পিকেকে'র বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ওই এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এর ফলে অসংখ্য গ্রাম ফাঁকা হয়ে গেছে।