ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুখ থুবড়ে পড়ছে চিকিৎসা সেবা

শয্যা, জনবল ও চিকিৎসক সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসা সেবার মান দিন দিন তলানিতে ঠেকছে। ৫৮ বছর পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও মিলছে না সেই অনুপাতে আধুনিক চিকিৎসা সেবা।

বুধবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র ৩ জন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে চলছে। বহির্বিভাগে রোগীর দীর্ঘ সারি, একাধিক রোগী জানান, “ডাক্তারই নেই। পুরো বহির্বিভাগে মাত্র একজন ডাক্তার রোগী দেখছেন।” 

সোনারপাড়া গ্রামের মঈন উদ্দিন বলেন, “এই পরিস্থিতিতে ইমারজেন্সি রোগী নিয়ে আসাই ঝুঁকিপূর্ণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা মেলে না।” বহির্বিভাগে অপেক্ষমাণ রোগীদের চোখেমুখে হতাশা স্পষ্ট।

পুরাতন ৩১ শয্যার ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা ভিড় জমিয়েছেন। একমাত্র দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং কিছু স্টাফ পর্যায়ক্রমে তাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্যাথলজি, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমের সামনেও প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। উপরতলায় শয্যার সংকটে অনেকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৮ জন মানুষের জন্য ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একেবারেই অপ্রতুল। অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত চলছে ভাড়ায় আনা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট দিয়ে। প্রধান সহকারী ও স্টোর কিপার না থাকায় জোড়াতালি দিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দুটি বিভাগ পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ জহুরুল আলম জানান, নবনির্মিত ভবন চালু হলেও ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এখনও অনুমোদন পায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই ৩১ শয্যার কাঠামোতেই চলছে চিকিৎসা সেবা। প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ৫০০–৬০০ জন, আন্তঃবিভাগে ৫০–৫৫ জন ও ল্যাবে ২০–৩০ জন রোগী সেবা নিচ্ছেন।

বর্তমানে ৩১ শয্যার জন্য থাকা ১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদই শূন্য। সেখানেই চলছে মাত্র ৩ জন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে পুরো কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় ১২২ জন জনবলের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৪ জন; ৪৮টি পদ শূন্য রয়েছে। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, জুনিয়র মেকানিক, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, ওয়ার্ড বয়, আয়া, বাবুর্চিসহ প্রায় সব পদই খালি। নেই কোনো স্টোর রুমও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান বলেন, “জনবল সংকটের বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে। বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করতেই আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।” তিনি জানান, ৩১ ও ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ–উভয় বিষয়ের ব্যাপারে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সমস্যার সমাধান কবে হবে—তা জানাতে পারেননি।