বংশাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ১০ গ্রাম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম। ভয়াবহ এই ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, গাছপালা, হাট-বাজার, মসজিদ-মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিএনপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল রক্ষায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ জুলাই) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ফতেপুর ইউনিয়নের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং জিও ব্যাগ ফেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙনে ফতেপুর, থলপাড়া, হিলড়া আদাবাড়ি, পারদিঘী, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর, গোড়াইল, গাড়াইলসহ প্রায় ১০টি গ্রাম মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। ব্যাপক ভাঙনে ফসলি জমি, বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, হাটবাজার ও রাস্তা-ঘাট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, হুমকির মুখে অবকাঠামো
ফতেপুর বাজারের দক্ষিণ পাশের পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে প্রায় তিন বছর। নদীভাঙনের কবলে পড়েছে হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ভূমি অফিস, ফতেপুর-মহেড়া-মির্জাপুর সড়কসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ও দাবি
ব্যবসায়ী পরিতোষ, কলেজ ছাত্র মাসুম, স্কুলশিক্ষক ফরিদ হোসেন ও ইব্রাহীম মিয়া জানান, ফতেপুর ইউনিয়নকে রক্ষায় ইতিপূর্বে মানববন্ধন ও দাবি-দাওয়া জানানো হলেও এখনো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হয়নি। তারা বলেন, নদী ভাঙনে রাস্তা-ঘাট, বসতি ও জনপদ বিপর্যস্ত হলেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই ইউনিয়নের জনপদ ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

হুমকির মুখে পৌরসভার এলাকা
বংশাই নদীর পাশে অবস্থিত মির্জাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাড়াইল ও পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারজানি ও বাওয়ার কুমারজানিও এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

প্রশাসনের অবস্থান
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল সাজ রিজন বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বংশাই নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।