মব সন্ত্রাসের বিস্তার নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ ও বাম জোটের তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা

ফরিদপুর, পটিয়া ও পাটগ্রামে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিচয়ে সংঘটিত সহিংস মব হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ ও বাম গণতান্ত্রিক জোট। পৃথক বিবৃতিতে এই দুই জোট সরকার, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা ও নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেছে।

গণতন্ত্র মঞ্চ এক বিবৃতিতে ফরিদপুরে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ. কে. আজাদের বাড়িতে সশস্ত্র মব হামলা, পটিয়া ও পাটগ্রাম থানায় রাজনৈতিক পরিচয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

নেতারা বলেন, "যেভাবে এ কে আজাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, তা আওয়ামী শাসনামলে বিরোধীদের ওপর চালানো হামলারই পুনরাবৃত্তি। আমরা চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের সেই চেহারা দেখতে চাই না।"

তারা প্রশ্ন তোলেন—"জাতীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে কি সরকারি মদদ রয়েছে?"

একই দিন প্রকাশিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিবৃতিতে লালমনিরহাট, কুমিল্লার মুরাদনগর, পটিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটা মব হামলা, বাড়িঘর ঘেরাও, নারী-শিশু নিপীড়ন, মাজার ও ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, "মব সন্ত্রাসের আড়ালে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন, নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং, আদিবাসীদের নির্যাতন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কার্যক্রম—সবই এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।"

তারা বলেন, "সরকারের প্রেস সচিব ও তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে মবকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ ও 'গণআন্দোলনের অংশ' হিসেবে উল্লেখ করায় জনমনে প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে?"

বাম নেতারা অভিযোগ করেন, "মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে '২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বিকৃত করে দেশের পরিস্থিতিকে সংকটময় করে তোলা হচ্ছে। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধকে '২৪-এর অভ্যুত্থান দিয়ে প্রতিস্থাপন করার কথা বলছে—এটি জাতির বিভক্তি ডেকে আনবে।"

গণতন্ত্র মঞ্চ ও বাম জোট একযোগে দাবি জানিয়েছে— অবিলম্বে মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে, প্রশাসন, আদালত ও সচিবালয়ের নির্লিপ্ততা ভেঙে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

নেতারা বলেন, “যদি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই অস্থিরতা নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং জনগণের হাতে দায়িত্ব তুলে নিতে বাধ্য করবে।”