পাটগ্রামে হামলার সময় হাতীবান্ধা থানা অবরোধ: বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানা থেকে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় হামলা-ভাঙচুরের সময় হাতীবান্ধা থানায় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কাজে বাধা, অবরোধ ও হুমকির অভিযোগে হাতিবান্ধা থানায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে হাতীবান্ধা থানার এএসআই শাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে করা এই মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে।

তাদের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, হাতীবান্ধা উপজেলা যুবদল সভাপতি ইউনুস আলী খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহ নুরন্নবী কাজল, ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল ইসলাম, কৃষক দলের আহ্বায়ক আমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, বুধবার রাতে পাটগ্রাম থানায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের সময় পাশের হাতীবান্ধা থানা থেকে পুলিশ যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার ফটকে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সে সময় সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) জয়ন্ত কুমার সেন ও হাতীবান্ধা থানার ওসি মাহমুদুন-নবী তিনটি গাড়ি নিয়ে উদ্ধার অভিযানে বের হয়েছিলেন।

তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানার ফটকের সামনে পৌঁছালে সেখানে ৭০-৮০টি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। অন্তত ৪০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখা হয় পুলিশ সদস্যদের।

হাতীবান্ধা থানার ওসি মাহমুদুন-নবী গণমাধ্যমকে বলেন, তারা আমাদের যেতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। গালাগাল করে, ধাক্কাধাক্কিও করেছে।

বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহ নুরন্নবী বলেন, আমরা কোনো বাধা দিইনি। একটি মামলার বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। উনি দুর্ব্যবহার করায় সেখানে কিছু বাকবিতণ্ডা হয়, কিন্তু পুলিশকে আটকে রাখার মতো কিছু ঘটেনি।

এদিকে শুক্রবার পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান অভিযোগ করে বলেন, পাথর ইজারাদারের দুই কর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এর প্রতিবাদে কিছু উত্তেজনা তৈরি হলেও বিএনপি কোনো হামলা বা সহিংসতায় জড়িত নয়।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই থানায় হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

এর আগে গত ২ জুলাই রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ‍উঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।  থানার চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাঙচুর করে, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে, ইট-পাটকেল ছুড়ে থানার জানালার কাঁচ ও দরজা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সবশেষ পাটগ্রাম থানায় হামলার সময় হাতীবান্ধা থানা অবরোধের অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।