ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় সেটিতে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। অপর ভবনে কক্ষ সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে বারান্দায় ক্লাস নিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে মোট দুটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে পুরাতন ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে নতুন ভবনের মাত্র দুটি কক্ষে। তার মধ্যে একটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে অফিস রুম হিসেবে। ফলে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছয়টি শ্রেণির পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না একটি ভবনের সীমিত স্থানে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমানুর রশীদ জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২০৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ শ্রেণিকক্ষ রয়েছে কেবল দুটি। বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই উপজেলা শিক্ষা অফিসে নতুন ভবনের চাহিদা দিয়ে রেজুলেশন জমা দিয়েছি। দ্রুত ভবন বরাদ্দ পেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আর কোনও সমস্যা থাকবে না।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, শ্রেণিকক্ষের অভাব একটি মৌলিক সমস্যা। শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক স্তরে এই ধরনের সংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি আমরা সরেজমিনে দেখে এসেছি। কুমারপুটি বিদ্যালয়সহ যেসব বিদ্যালয়ে ভবনের প্রয়োজন, সেসবের তালিকা তৈরি করে অচিরেই উপজেলা শিক্ষা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, বিদ্যালয় থেকে আবেদন পাওয়ার পর আমরা তা শিক্ষা কমিটিতে উত্থাপন করব। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে ভবন নির্মাণের জন্য।