দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ১১ বছর আগে সংঘটিত চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন জামায়াতের এক সাবেক নেতা। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়নসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী ফারুক ইসলাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি এবং বর্তমানে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে খানসামা থানায় লিখিতভাবে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে তৎকালীন থানার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা চালান। এসময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় সাত লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
এছাড়া চাঁদা হিসেবে এক লাখ টাকা না দেওয়ায় বাদীকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, লাঠিপেটা করা হয় এবং একাধিক মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়। বাদীর অভিযোগ, থানায় এনে আওয়ামী লীগ নেতা মোকছেদার রহমান তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের—মাইজার রহমান, জিকরুল হক, রায়হান, আব্দুল্লাহ আল কাফি, মাওলানা আনিছুর রহমান ও মজিবর রহমানের বাড়ি থেকেও প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
ফারুক ইসলাম বলেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিচার চাওয়াটাই ছিল অসম্ভব। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় সাহস করে মামলা করেছি। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক জানান, ‘বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’