সড়ক যেন চার কিলোমিটারের চাষের জমি, ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

একটু বৃষ্টিতেই সড়কে সৃষ্টি হয়েছে এক হাঁটু কাদা। বর্ষা এলেই জুতো হাতে নিয়ে সেই সড়কে চলাচল করে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বছরের পর বছরজুড়ে সড়কটি ঘিরে শেষ হয়নি দুর্ভোগ। শেষ পর্যন্ত সেই সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে এই দুর্ভোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রামবাসী।

রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা কাদাযুক্ত রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করেন। অভিনব এই প্রতিবাদের ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া থেকে হিমনগর হয়ে চরপিঁপলা পর্যন্ত চার কিলোমিটার কাঁচা সড়কটির অবস্থান। গ্রামীণ উন্নয়ন অবকাঠামোর আওতায় আশির দশকে মাটির এই সড়কটি মানুষ চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কটির পিঁপলা এবং কাঁটাবাড়ি অংশে পাকা হলেও মাঝখানের ৪ কিলোমিটার কাঁচা রয়ে গেছে। 
তাছাড়া সড়ক ঘেঁষে আশপাশের গ্রামগুলোতে বসতি গড়ে উঠেছে। এতে সড়কটির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে পাকা করা হয়নি। বিষয়টি দায়িত্বশীলদের বারবার অবগত করেও কোনো লাভ হয়নি। সবশেষ সড়কে গাছের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রামবাসী। 

সড়কটির ওপর নির্ভরশীল আব্দুস সাত্তার, চুমকি বেগম, আফাজ আলীসহ অন্তত ১৫জন বাসিন্দা জানান, মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামকে বিভক্ত করেছে প্রবাহমান গুমানী নদী। নদীটির উত্তরপাশে মশিন্দা চরপড়া, বাহাদুরপুর উত্তরপাড়া, চরপিঁপলা এবং পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের চরকুশাবাড়ি, কাঁটাবাড়ি, বিন্যাবাড়িসহ বেশকিছু গ্রাম রয়েছে। আর দক্ষিণ অংশে শিকারপুর আলীয়া মাদরাসা, ড. মহসিন আলী কলেজ, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাট-বাজার।

প্রয়োজনীয় সব কাজ আর জেলা উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে কাঁচা ওই সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয় এসব গ্রামের মানুষদের। একই সঙ্গে জমিতে চাষাবাদের জন্য বীজ, সার কীটনাশক এবং খেতের উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও দুই পাড়ের বহু কৃষক কাঁচা সড়কটি ব্যবহার করেন। 

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মুনসুর আলী ও স্কুল শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ধুলো আর বর্ষায় হাঁটু কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। কাঁচা সড়কটি নির্মাণের পর বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও এলাকার উন্নয়নে সড়কটি আর পাকাকরণ করা হয়নি। তাই চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কাদায় ধানের চারা রোপন করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছি।

মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারি বলেন, গুমানী নদীর শিকারপুর বাজার অংশে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে কাঁচা সড়কটিও পাকাকরণ করা হবে।

এদিকে কাঁচা সড়কে ধান রোপণের খবরে সড়কটি পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী। স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ  বলেন, সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা এবং কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে সড়কটি পাকাকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ করা হবে।