ব্রিকস জোটের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’তে যে কোনো দেশ যুক্ত হলে সেই দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৭ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি এই কড়া অবস্থানের ঘোষণা দেন
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যে কোনো দেশ ব্রিকসের আমেরিকাবিরোধী নীতিতে নিজেদের যুক্ত করবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এই নীতির কোনও ব্যতিক্রম থাকবে না। সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য ধন্যবাদ।’
যদিও ট্রাম্প তার বার্তায় নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি, ঠিক কোন নীতিকে তিনি ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বা ‘আমেরিকাবিরোধী’ হিসেবে দেখছেন, তবে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, এটি মূলত ব্রিকসের সম্প্রসারণ এবং ডলার-নির্ভর আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প গঠনের প্রচেষ্টা ঘিরেই ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া।
বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে চাওয়া ব্রিকসের তেল বাণিজ্যে ডলার পরিহার, নিজস্ব মুদ্রা চালুর চিন্তা, ও উন্নয়ন ব্যাংক ব্যবস্থায় ভিন্ন পন্থা নেওয়ার উদ্যোগকে ‘চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।
ব্রিকস (BRICS) নামটি প্রথম আসে ২০০৯ সালে, যখন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন প্রথম সম্মেলনে একত্রিত হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকাও এই জোটে যোগ দেয়। আর ২০২৪ সালে জোটের সম্প্রসারণে যুক্ত হয়েছে ছয়টি নতুন দেশ—মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সম্প্রসারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি 'বিকল্প শক্তি' হিসেবে ব্রিকসকে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নেতৃত্বের প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা ট্রাম্প সরাসরিভাবে গ্রহণ করতে নারাজ।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ওয়াশিংটনের 'বাণিজ্যিক প্রতিশোধনীতি' হিসেবে দেখছেন, যেখানে কূটনৈতিক বিরোধের জবাবে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নেয়া হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পরে ফের ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প এখন তার প্রথম মেয়াদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছেন। তার এই অবস্থান কেবল বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক কৌশলগত রাজনীতির দিক থেকেও আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে এখনো ব্রিকসভুক্ত বা নতুন আগ্রহী কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই হুঁশিয়ারি যে সামনের দিনগুলোতে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তা বলছেন পর্যবেক্ষকেরা।