ভারতের হিন্দি সিনেমার অভিনেতা আমির খান যেদিন লুকিয়ে রিনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই দিনটি আনন্দের হওয়ার কথা ছিল তাদের জন্য। কিন্তু সেদিনই পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ ছক্কা হাঁকিয়ে হারিয়ে দেয় ভারতকে। আর পরাজয়ের বিষন্নতায় ডুবে যান আমির।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ তার বিয়ের দিনটি ‘বরবাদ’ করে দিয়েছিলেন, সে গল্প আমির করেছেন গণমাধ্যম ‘দ্য ললনটপকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
একই পাড়ায় থাকত আমির ও রিনার পরিবার। দুজনে প্রেম করতেন চুটিয়ে, কিন্তু রিনার পরিবার থেকে আমিরকে নিয়ে ছিল আপত্তি।
একে অন্যেকে হারানোর ভয়ে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। আমির তখনও তারকা হয়ে ওঠেননি, কেবল অভিনয় শুরু করেছেন।
ভারতের আইন অনুযায়ী ছেলের বিয়ের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর। ১৯৮৬ সালের ১৪ মার্চ একুশে পা দেন আমির। সেদিনই রিনাকে বিয়ে করেন তিনি। ওই সময় রিনার বয়স ছিল ১৯ বছর।
দিনটি স্মরণ করে আমির বলেন, বিয়ের পর তারা ভয় পাচ্ছিলেন বাড়ি ফিরতে। তাদের মনে হচ্ছিল, বাড়ির সবাই জিজ্ঞেস করবে, তারা কোথায় ছিল, এত দেরি কেন হলো।
আমিরের ভাষ্যে, ‘কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে সেদিন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল। আমাদের দুই জনের পরিবারের মানুষজন এতটাই ব্যস্ত ছিল খেলায়, কেউ খেয়ালই করেনি, আমরা নেই।’
কিন্তু ওই ম্যাচই হয়ে ওঠে আমিরের বিয়ের দিনের মন খারাপের কারণ।
কারণ ওই ম্যাচে শেষ বলে পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে হারিয়েছিলেন।
আমির বলেন, ‘আমি খেলা দেখছিলাম। জাভেদ মিয়াঁদাদের ছক্কা আমাকে ডিপ্রেশনে পাঠিয়ে দিয়েছিল।’
এই গল্প জাভেদ মিয়াঁদাদকে একবার বলেছিলেন আমির।
আমির বলেন, ‘একবার ফ্লাইটে তার সঙ্গে দেখা হলে আমি বলি, জাভেদ ভাই, আপনি কাজটা ঠিক করেননি। আপনি আমার বিয়ের দিনটা বরবাদ করে দিলেন। উনি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলে কিভাবে? আমি বললাম, সেদিনই আপনি শেষ বলে ছক্কা মেরেছিলেন। ভারত হেরে যায় আর আমি ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম।’
আমির-রিনার বিয়ের খবর ফাঁস হয়ে যায় কয়েক মাসের মধ্যেই। এতে রিনার বাবা এতটাই কষ্ট পান যে হার্ট অ্যাটাক হয় তার।
তবে ধীরে ধীরে রিনার পরিবার আমিরকে মেনে নেয়। পরে আমিরের ছোট বোন ফারহাত বিয়ে করেন রিনার ভাই রাজীবকে। এতে দুই পরিবরের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
আমির ও রিনা দীর্ঘ ১৬ বছর একসঙ্গে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান, ইরা খান ও জুনাইদ খান।
তবে এখন আমির অকপটে বলেন, রিনাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত ছিল একেবারেই হঠকারী ছিল।
অভিনেতার ভাষ্য, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছেন তিনি।
আমির বলেন, ‘একে অপরকে চেনার সুযোগই ঠিকমতো পাইনি আমরা, মাত্র চার মাসের পরিচয়। ভালোবাসতাম খুব, কিন্তু এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, তখন একটু ভেবে নেওয়া উচিত ছিল।’
‘ওই বয়সে অনেক কিছুই বোঝা যায় না, আবেগে অনেক কিছু করে ফেলা হয়’ যোগ করেন আমির।
তবে সবটা শুধুই ভুল ছিল, তা বলছেন না অভিনেতা।
আমিরের কথায়,‘রিনার সঙ্গে আমার জীবনটা খুব ভালো কেটেছে। এটা ভাববেন না, আমি বলছি রিনাকে বিয়ে করাটা ভুল ছিল। আমি বলছি, সময়টা হয়ত সঠিক ছিল না। রিনা দারুণ একজন মানুষ। আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা আছে।’
রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমির বিয়ে করে পরিচালক কিরণ রাওকে। সেই সংসারও টেকেনি আমিরের। এই অভিনেতার বর্তমান প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাট।