পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা 'স্বাভাবিক' আছে বলে জানিয়েছে চীন। সোমবার (৭ জুলাই) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, 'চীন ও পাকিস্তান ঐতিহ্যবাহী, ভালো প্রতিবেশী এবং প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা স্বাভাবিক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে না।'
গত মে মাসে সীমান্ত পেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সর্বশেষ সংঘাত পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি মাও নিং কথা বলেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের বিষয়ে একজন প্রতিবেদকের প্রশ্নের মুখে মাও বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানকে 'দূরে সরানো যাবে না'। 'আমরা উভয় দেশের মধ্যে তাদের পার্থক্য ও মতবিরোধ সঠিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংলাপ ও পরামর্শের জন্য সমর্থন করি এবং যৌথভাবে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখি। চীন এই লক্ষ্যে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।'
নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে মাও বলেন, 'চীন-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রয়েছে... উন্নয়নের। চীন-ভারত সম্পর্কের স্থিতিশীল এবং সুদৃঢ় প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার জন্য আমরা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চাই।'
পৃথকভাবে মাও বলেন, বেইজিং দালাই লামার ইস্যুতে নয়াদিল্লির কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, '১৪তম দালাই লামা একজন রাজনৈতিক নির্বাসিত, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চীনবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন এবং ধর্মের আড়ালে জিজাংকে চীন থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছিলেন।' চীন তিব্বতকে 'জিজাং' বলে।
মুখপাত্র বলেন, 'জিজাং-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর প্রতি ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার প্রশংসা করা উচিত...জিজাং-সম্পর্কিত বিষয়ে চীনের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা সম্মান করা উচিত... বিচক্ষণতার সাথে কাজ করা উচিত এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য এই বিষয়টি ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিত। চীন এই বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।'
দালাই লামার ৯০তম জন্মদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মাও এ কথা বলেন।
এদিকে, বেইজিংয়ের সর্বশেষ বিবৃতির বিষয়ে নয়াদিল্লির তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।