জিরুনার বিরুদ্ধে ১৪ সদস্যের অনাস্থা, শেফালীকা ত্রিপুরা অস্থায়ী চেয়ারম্যান

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে পরিষদের সকল সদস্য অনাস্থা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব স্থগিত করে পরিষদের সদস্য শেফালীকা ত্রিপুরাকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শেফালীকা ত্রিপুরা অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর একদিন আগে, সোমবার (৭ জুলাই) মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে পরিষদের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, পরিষদের ১৪ জন সদস্য লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন যে, জিরুনা ত্রিপুরা পরিষদকে কুক্ষিগত করে স্বজনপ্রীতি, ঘুষবাণিজ্য, শিক্ষকের বদলি বাণিজ্য, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এছাড়াও প্রকৌশল শাখার কর্মচারীদের হুমকি, সদস্যদের অবজ্ঞা ও অনুমোদন ছাড়া নিজের স্বজনদের নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান ছয় শতাংশ হারে ঘুষ নিয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের বরাদ্দ বিতরণ করেছেন এবং জামানতের অর্থ ফেরতের জন্যও দেড় শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করেছেন। এমনকি একজন প্রকৌশল কর্মচারীকে প্রকাশ্যে গুলি করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অনিয়মে পরিষদের সম্মানহানি হয়েছে এবং তাই তাঁরা জেলা পরিষদ আইন ২০১০-এর ১২(২) ধারায় অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছেন।

গত বছরের ৭ নভেম্বর জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্যকে নিয়ে গঠিত হয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জিরুনা ত্রিপুরার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।