আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ, ফেনীতে বন্যার আশঙ্কা

ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার তিনটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহতভাব পানি বৃদ্ধি এবং বাঁধ ভাঙনের কারণে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বাঁধের অন্তত ৬টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে মুহুরী নদীর পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে।  

জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফুলগাজী উপজেলায় ৯৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে যার মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৭টি।

FB_IMG_1751966201453 (1)

এছাড়াও, পরশুরাম উপজেলায় ৩২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত পরিবারগুলো আসতে শুরু করেছে।

ফুলগাজী উপজেলায় ২টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৩৬টি পরিবারের, মোট ৮৫ জন। পরশুরাম উপজেলায় ২টি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে ৫টি পরিবার, মোট ২০ জন।

ফেনী সদর উপজেলায় ১টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৭টি পরিবার, মোট ২৮ জন।

IMG-20250708-WA0175

এর আগে আবহাওয়া অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ফেনীতে আজ (০৮ জুলাই) ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা মৌসুমের রেকর্ড। এই অবস্থায় মুহুরী নদীর বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

আবহাওয়াবিদ এম. খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ফেনীতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে, যেখানে ৮৯ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি হলে অতিরিক্ত ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।  

IMG-20250708-WA0187

এদিকে পাউবো'র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, মুহুরী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে গোমতী নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে।  

ওই নদীগুলোর পানির সমতল আগামী একদিনে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। বুধবার (০৯ জুলাই) নাগাদ মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠলে ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন উদয় রায়হান।