সাগরে দিনভর চক্কর শেষে থামলো স্পিডবোট, মিলেনি চবি শিক্ষার্থীর খোঁজ

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে নিখোঁজ অরিত্র হাসানের সন্ধান ৬৫ ঘণ্টা চেষ্টা করেও মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টেকনাফ-বাহারছরা, হিমছড়ি, সোনাদিয়া, নাজিরারটেক, মহেশখালী-বাঁকখালীর মোহনাসহ সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক দুটি স্পীড বোটে তার খোঁজ চালানো হয়েছে। কিন্তু নিরাশ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কথা জানিয়ে কোনো এলাকায় মরদেহ দেখতে পেলে জানানোর অনুরোধ করেছেন সী সেইফ লাইফগার্ডের সিনিয়রকর্মী মোহাম্মদ ওসমান।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে পানিতে নেমে নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী কে এম সাদমান রহমান সাবাব, অরিত্র হাসান ও আসিফ আহমেদ। এর মাঝে নিখোঁজের কয়েকঘণ্টা পর সাবাবের মরদেহ উদ্ধার হয়। নিখোঁজ ছিলেন বাকি দুজন। বুধবার সকালে আসিফ আহমেদের মরদেহ ভেসে ওঠে। তবে এখনো নিখোঁজ অরিত্র হাসান। 

তাদের সঙ্গে থাকলেও পানিতে না নামায় দুর্ঘটনা হতে বেঁচে যান আরও অপর দু’সহপাঠী ফারহান ও রিয়াদ। সাবাবের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে আর বুধবার সন্ধ্যায় আসিফের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাবাবের বাড়ি ঢাকার মিরপুরে। আসিফ ও অরিত্র দুজনেই বগুড়ার সন্তান।

সহপাঠী ফারহান বলেন, শুরুতে কেউই বিচে নামতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু সাবাব নেমে পড়লে তার দেখাদেখি আসিফ, অরিত্রও নেমে যায়। শুরুতে ঢেউ বেশি ছিল না, কিন্তু হঠাৎ বড় ঢেউ আসতে শুরু করলে তারা উঠে আসার চেষ্টা করে কিন্তু পারেনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির তত্বাবধায়ক মো. শাহিদুল আলম বলেন, নিখোঁজ অরিত্রকে পেতে বুধবারের মতো বৃহস্পতিবার সারাদিন সাগরের বিভিন্ন উপকূলে সন্ধান চালানো হয়েছে। দুটি স্পিডবোটে লাইফ গার্ড, বীচ কর্মীসহ অন্যরা মিলে সোনাদিয়া, মহেশখালী চ্যানেল, টেকনাফ, বাহারছরাসহ সাগরতীরের সম্ভাব্যসব জায়গায় খোঁজ করা হয়। না পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সন্ধান চালানো টিম ফিরে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়েছে, কোথাও মরদেহটি দেখা মিললে যেন জানানো হয়।  

প্রসঙ্গত, স্রোতের টানে ভেসে ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে মারা যান পাঁচজন পর্যটক। এর আগের ৬ বছরে একইভাবে মারা গেছেন ৪৯ পর্যটক। সদ্যগত কোরবানির ঈদে কলাতলী সৈকতে গোসলে নেমে রাজশাহীর শাহিনুর রহমান (৫৮) ও সিফাত রহমান (২০) নামের পর্যটক বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। তারাসহ এ সময় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রাণ হারান ৬ জন। এদের মাঝে তিনজন পর্যটক, একজন স্থানীয়। অপর দুজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। উচ্ছ্বাসে নিয়ম ভাঙায় সাগরে পর্যটক মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাচ্ছে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।