চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বাজারে ত্রুটিপূর্ণ প্রেসক্রিপশনের কারণে এক ১২ বছরের শিশুর শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুটিকে জ্বরের চিকিৎসার নাম করে দেওয়া হয়েছিলো মানসিক রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ওষুধ, যা শিশুর শরীরে স্নায়ুবিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
ঘটনা অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই সকালে আরাফাত পাঠান নামের এই শিশু জ্বরে আক্রান্ত হলে তার মা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় ‘শুভ মেডিকেল হল’-এ। কেমিস্ট এবং ড্রাগিস্ট গৌতম কুমার দাস নিজেই প্রেসক্রিপশন তৈরি করে শিশুতে ওষুধ সেবন করান। এর কিছুক্ষণ পরই শিশুটির অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে—চোখ বাঁকা হয়ে যায়, জিহ্বা বেরিয়ে আসে এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
পরবর্তীতে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা ও মুন হাসপাতাল ও গ্রীনলাইফসহ মোট পাঁচটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে মানসিক রোগের ওষুধ মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা তার শারীরিক স্থিতি বিপন্ন করেছে।
ভুক্তভোগী শিশুর চাচা শাহাদাত পাঠান অভিযোগ করেন, আমার ভাতিজাকে শুধুমাত্র জ্বর ছিল, অথচ তাকে দেওয়া হলো পশ্চিমের মানসিক রোগের ওষুধ! খাঁচার পাগলের মতো আচরণ করতে শুরু করে—তা আমরা কখনো ভাবিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনা ক্যাম্প ও হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর জানিয়েছেন, পাশ করা প্রেসক্রিপশন লক্ষ্য করলে বুঝা যায়, এটি শিশুদের জন্য একদম উপযোগী নয়। কেমিস্ট কিভাবে প্রেসক্রিপশন তৈরি করতে পারেন—তাও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ওই ওষুধ কিভাবে ও কেন দেওয়া হয়, তদারকি করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।