মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের শততম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
শুক্রবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, শুভ জন্মদিন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। আপনি একজন কিংবদন্তি রাষ্ট্রনায়ক, যার প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব শুধু একটি জাতিকে নয়, বরং বিশ্বের বহু প্রজন্মকে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি লেখেন, আজ থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আপনাকে স্বাগত জানানোর সৌভাগ্য হয়েছিল — সেই স্মৃতি আজও অনন্য প্রেরণা হয়ে আছে। আপনার সুস্থতা, শান্তি ও দীপ্তিময় জীবনের জন্য অশেষ শুভকামনা।
মাহাথির মোহাম্মদ ২৪ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রথম দফায় ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর এবং পরে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আরও দুই বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে আসে ব্যাপক পরিবর্তন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে নজিরবিহীনভাবে। তবে বিরোধী মত দমন ও মানবাধিকার রক্ষায় তার সীমিত অঙ্গীকার নিয়ে বহুবার বিতর্ক হয়েছে।
১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের আলোর সেতারে জন্মগ্রহণ করেন মাহাথির। তার দাদা ভারতের কেরালা থেকে সেখানে অভিবাসী হন। বাবা মোহাম্মদ ইস্কান্দার ছিলেন একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের প্রধান শিক্ষক। চল্লিশের দশকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন মাহাথির, সেখানেই পরিচয় হয় ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গী সিতি হাসমাহর সঙ্গে।
গাইনোকোলজিতে এমবিবিএস শেষ করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন ও চিকিৎসাসেবা শুরু করেন। তবে মানুষের জন্য বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার চিন্তা থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (ইউএমএনও) পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সময়কালে ‘লুক ইস্ট পলিসি’ গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে তিনি পূর্ব এশীয় দেশগুলোর উন্নয়ন মডেল অনুসরণে উৎসাহ দেন এবং পশ্চিমা নির্ভরতা কমান। তার প্রথম মেয়াদকালে মালয়েশিয়ায় পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, এক্সপ্রেসওয়ে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে। ১৯৯৭ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটও তিনি দক্ষ হাতে মোকাবিলা করেন।