মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা কোয়ার্টারে বিষাক্ত সাপের উপস্থিতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
রোববার (১৩ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চালানো এক অভিযানে কোয়ার্টার এলাকা থেকে ১১টি খৈয়া গোখরা সাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬টি জীবিত সাপ উদ্ধার করেছে 'ডিপ ইকোলজি স্ন্যাক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন' নামে একটি সাপ সংরক্ষণকারী সংস্থা। বাকি ৫টি সাপ এর আগে পুলিশ সদস্যরাই মেরে ফেলেছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, সাপগুলো আমাদের সদস্যদের ঘুমানোর জায়গায় দেখা যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ঘর তল্লাশি করে পাঁচটি সাপ মেরে ফেলা হয়। এরপর এনজিও টিমকে খবর দেওয়া হলে তারা অভিযান চালিয়ে আরও ছয়টি সাপ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, থানা ভবন ও কোয়ার্টারটি বহু পুরোনো ও স্যাঁতসেঁতে। চারদিকে জঙ্গল, আবার বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। নতুন ভবন না হওয়ায় আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। আপাতত পুলিশ সদস্যদের কোয়ার্টারে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সাপ সংরক্ষণ সংগঠন ‘ডিপ ইকোলজি স্ন্যাক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন’-এর পরিচালক সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া পরি জানান, উদ্ধারকৃত সবগুলোই খৈয়া গোখরা প্রজাতির সাপ। এরা এক মাস বয়স হলেও ভয়ংকর বিষধর। একবার দংশন করলেই মৃত্যু হতে পারে।
সহযোগী গবেষক ফয়সাল কবির ও মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘরে কার্বলিক এসিড দিলে সাপ থাকবে না—এটি ভুল ধারণা। বরং ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতে সাপ গন্ধ সহ্য করতে না পেরে চলে যায়।
তারা আরও জানান, এখনো কোয়ার্টারে সাপের বাসার সন্ধান মেলেনি, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। উদ্ধারকৃত সাপগুলো বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ গবেষণা কেন্দ্রে রাখা হবে।