কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী অরিত্র হাসানের (২২) খোঁজ মেলেনি ছয়দিনেও। রোববার (১৩ জুলাই) ছিল তার নিখোঁজ হওয়ার ষষ্ঠ দিন। অরিত্র হাসান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বগুড়া জেলার বাসিন্দা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াটার বাইক, স্পিডবোট ও ড্রোনের সাহায্যে ইনানী, হিমছড়ি ও আশপাশের উপকূলে তল্লাশি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা যায়নি।
নিখোঁজের পর থেকেই ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় কক্সবাজারে অবস্থান করছেন অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান ও মা জেসমিন আক্তার। ছেলের জন্য প্রতিদিন সৈকতের এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা, বুকভরা আশা নিয়ে।
“সাগর হয়তো আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেবে”
মা জেসমিন আক্তারের চোখে ঘুম নেই, মুখে কোনো কথা নেই। কেবল দৃষ্টি আটকে আছে সাগরের ঢেউয়ের দিকে। তিনি বলেন,
ছেলেটা আমাদের একমাত্র সন্তান। খুব যত্ন করে বড় করেছি। মেধাবী ছিল। তার দুই বন্ধুর লাশ পেয়েছি, কিন্তু আমার অরিত্রকে এখনও পাইনি। যতদিন না ছেলেকে পাব, ততদিন কক্সবাজার ছাড়তে পারবো না। ওকে এই অথৈ সাগরে ফেলে রেখে বাসায় ফিরবো কীভাবে?
নিখোঁজের আগে মা জেসমিন আক্তারকে একটি ছবি পাঠিয়েছিল অরিত্র। সেই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি। মা জানান, ছবিটা দেখে আমি ছোট্ট একটা ম্যাসেজ পাঠাই। সে আর তা পড়তে পারেনি। রাতে একটু রাগও করেছিলাম। বলেছিলাম, ‘বাবা, না জানিয়ে চলে গেলে কেন? সাবধানে থেকো, ছবি তুলো কিন্তু উপকূলে থেকো।
একটি দুর্ঘটনা বদলে দিল সব
প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে পাঁচ বন্ধু মিলে কক্সবাজার ঘুরতে আসে অরিত্র। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হিমছড়ি সৈকতে তিন বন্ধু—অরিত্র, সাদমান ও আসিফ—সাগরে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢেউয়ে ভেসে যায় তারা। সাদমানের মরদেহ পরে সৈকতে এবং আসিফের মরদেহ একদিন পর নাজিরারটেক পয়েন্টে ভেসে আসে। কিন্তু অরিত্রের খোঁজ এখনো মেলেনি।
নিরন্তর তল্লাশি, এখনও সফল নয়
অরিত্রকে খুঁজতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস, পর্যটন পুলিশ, বেসরকারি লাইফগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা। সি সেইফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বুধবার থেকে প্রতিদিন উপকূল ও নদীর মোহনায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো অরিত্রকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, আমরা তাকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। শনিবার বিমানবাহিনী ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। পাশাপাশি স্পিডবোটে করে মহেশখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত উপকূলজুড়ে অভিযান চলছে।
অপেক্ষার শেষ কোথায়?
বাবা সাকিব হাসান বলেন, আমি যেতে মানা করেছিলাম, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে সে কক্সবাজার চলে আসে। এরপরের দিন সকালে খবর পেলাম—সে নিখোঁজ। সেই থেকে আমরা এখানে ছুটে এসেছি। ছেলেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত কিছুতেই ফিরে যেতে পারবো না।