পাকিস্তানের খাইবারপাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের পতন ঘটাতে বিরোধী দলগুলো চূড়ান্ত আলোচনা পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার (১৩ জুলাই) একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি, কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আমির মুকাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পারভেজ খাটক সম্প্রতি একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকগুলোতে পিটিআই সরকারকে হটানোর সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
জানা গেছে, জমিয়তে উলেমায়ে ইসলামের (জেইইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানও এই আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে পারভেজ খাটকের বোনের মৃত্যুতে তার বাসভবনে আয়োজিত এক শোকানুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এরপর শনিবার গভর্নর হাউজে ফয়সাল করিম কুন্ডি ও আমির মুকামের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধী দলগুলো এখন প্রাদেশিক আইনপ্রণেতাদের নিয়ে গভর্নর হাউজে একটি বড় পরিসরের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে একটি সমন্বিত কৌশল চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো একক প্ল্যাটফর্মে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার পরামর্শ দিয়েছি—প্রদেশে পরিবর্তন আসা উচিত। তবে এই পরিবর্তন আদর্শগতভাবে পিটিআইয়ের অভ্যন্তর থেকেই আসা উচিত।’
তিনি আরও জানান, তার দল এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষ্য, ‘এই প্রদেশ আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারবে না।’
সিনেট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখনই কোনো সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে মন্তব্য করার সময় নয়।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ২৭ জুন দেওয়া এক রায়ে পিটিআইকে সংরক্ষিত আসন থেকে অযোগ্য ঘোষণার পর, এখন খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক পরিষদে বিরোধী জোট মাত্র ২০ আসন দূরে রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের।
সবকিছু ঠিকঠাক চললে, খুব শিগগিরই এই প্রদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।