শ্রীমঙ্গলে পাওনা ২২ হাজার টাকার জন্য কলেজছাত্রকে হত্যা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, স্কুল ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দি গ্রামের টমটম চালক মো. কাজল মিয়া (২০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাদাম বিক্রেতা মো. সিরাজুল ইসলাম (২১)।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা।

তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, গোপন সূত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে এসআই অলক বিহারী গুণ ও এসআই মহিবুর রহমানের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, নিহত হৃদয় অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বড় অঙ্কের দেনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই দেনা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হৃদয়ের কাছে কাজল মিয়ার প্রায় ২২ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা আদায় ও চাকরির প্রলোভনে তারা হৃদয়কে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে ৬ জুলাই রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হৃদয়কে শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা বাগানে নিয়ে গিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করতে মৃতদেহ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে চলে যায়।

হত্যার পর তারা হৃদয়ের মোবাইল ফোন মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে।

নিহত হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন (১৯) কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি শ্রীমঙ্গল শহরের কালীঘাট রোড এলাকায় একটি ওয়াইফাই অপারেটর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

গত ৭ জুলাই সকালে শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা বাগানের ১ নম্বর সেকশনে একটি গাছের নিচে হৃদয়ের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে গলায় বেল্ট প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।