কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনে স্টেশন মাস্টারের সিগন্যাল বিভ্রাটের কারণে যাত্রী না তুলেই চলে যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস। এতে শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ ঘটনার জেরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশন মাস্টারসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী মজুমদার।
জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময় ও স্টপেজ অনুযায়ী নাঙ্গলকোট স্টেশনে থামার কথা ছিল। তবে ভুল সিগন্যালের কারণে ট্রেনটি সেখানে না থেমে সরাসরি চলে যায়, যাত্রীদের না তুলেই। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা পরে স্টেশন মাস্টারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি অতিরিক্তভাবে নাঙ্গলকোট স্টেশনে থামিয়ে ফেলে যাওয়া যাত্রীদের চট্টগ্রাম অভিমুখে পাঠানো হয়।
নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার রূপন চন্দ্র শীল বলেন, "আমি লাকসাম কেবিনে দায়িত্বরত মাস্টারকে ট্রেন থামানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) এর পরিবর্তে সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০২) মনে করে সেটি থামাননি। মূল সমস্যা সিগন্যাল বিভ্রাট থেকে হয়েছে।"
এদিকে কেবিন মাস্টার শিমুল মজুমদার দাবি করেন, “আমি ট্রেনের নাম সঠিকভাবেই দিয়েছি। তবে ট্রেনের চালক বা গার্ডও এই ভুল সংশোধন করতে পারতেন। তারা চাইলেই স্টপেজ দিতে পারতেন।”
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরপরই তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় স্টেশন মাস্টারসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লা রেলওয়ের কর্মকর্তা লিয়াকত আলী মজুমদার বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আমরা দুঃখিত।"