জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় খোলার অনুমতি দীর্ঘ মেয়াদে বিপদ ডেকে আনবে: ইসলামী আন্দোলন

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের মিশন স্থাপনের অনুমোদন থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দাবি, এই কার্যালয় স্থাপনের কোনো ইতিবাচক দিক নেই এবং এটি দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিপদ ডেকে আনবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘কার্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা ও এর প্রভাব সম্পর্কে জাতিকে অবহিত না করে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া আমাদের বিস্মিত করেছে।’

তিনি জানান, গত ১০ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে তিন বছরের জন্য ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ১১ জুলাই বিক্ষোভ করেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় মানবাধিকার পশ্চিমা রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মতো একচোখা নীতির সংস্থাকে বাংলাদেশে অনুমোদন দেওয়া দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবাধিকার মানে সমকামিতার বৈধতা, ট্রান্সজেন্ডার স্বীকৃতি, গর্ভপাতের অধিকার, উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন ও যৌনশিক্ষার প্রসার—যা বাংলাদেশের হাজার বছরের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

মাওলানা আতাউর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘এই কার্যালয় এসব মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন তৈরি করবে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক বিবেচনায় এই কার্যালয়ের স্থাপনায় দেশের কোনো উপকার নেই—বরং আছে ক্ষতির আশঙ্কা। তাই সরকারকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’