পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে নদীভাঙনের আশঙ্কা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

টানা বর্ষণ ও পদ্মা নদীতে পানির তীব্র স্রোতের কারণে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার গোপালপুর, চন্দনশহর ও পিরোজপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটার ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, বসতবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

স্থানীয়রা বলছেন, আর প্রতিশ্রুতি নয়—নদীভাঙন রোধে এখনই স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৬৫) জানান, স্বাধীনতার পর পদ্মা নদী ভারতের সাহেবনগর সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত হতো। তবে গত ৩৫ বছরে দিক পরিবর্তনের ফলে নদী বাংলাদেশ সীমানা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তীর ভেঙে যাচ্ছে। তার দাবি, ইতোমধ্যে চন্দনশহর নামের একটি মৌজা পুরোপুরি মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। গোপালপুর ও পিরোজপুরের বড় একটি অংশ বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে আমার নিজের ১০ বিঘাসহ প্রায় ২০০ বিঘা কৃষি জমি পদ্মায় চলে গেছে। শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

চন্দনশহরের সিকেন্দার আলী বলেন, নদীভাঙন এখন আমাদের জীবনের স্থায়ী যন্ত্রণা। আমার পরিবারের ঘরবাড়িসহ প্রায় ৫০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন গোপালপুর আর পিরোজপুরও চন্দনশহরের মতো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

গত রোববার (১৩ জুলাই) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চারঘাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড সংলগ্ন গোপালপুর ও চন্দনশহর এলাকার নদীতীরে প্রায় ১ কিমি জুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ ফুট নদীতীর ভেঙে পদ্মায় ধসে পড়েছে। ফাটল তৈরি হয়েছে আরও প্রায় ৩ কিমি এলাকাজুড়ে, যা কয়েকশ বিঘা জমির জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোসাররফ হোসেন বলেন, টানা বর্ষণ, স্রোত ও পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙন প্রতিদিনই বাড়ছে। ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। আমরা অচিরেই ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।