শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গুচ্ছগ্রামে সাংবাদিক বাড়িতে আসায় আঙ্গুরি বেগম (৭৫) নামের এক অসহায় বৃদ্ধা নারীকে একঘরে করে রেখেছে স্থানীয় মাদককারবারি চক্র। শুধু তাই নয়, ওই সাংবাদিককে এলাকায় এলেই হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গুচ্ছগ্রামের ৩০ নম্বর ঘরে বসবাসরত আঙ্গুরি বেগম জীবিকার তাগিদে শ্রমিকের কাজ করে জীবনযাপন করতেন। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারালেও বেঁচে থাকার জন্য এখনও সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।
দুই ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও কেউ তার খোঁজ নেয় না। নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন তিনি। খাট না থাকায় মাটিতেই ঘুমান, আর একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না।
দুই মাস আগে ইত্তেফাক পত্রিকার ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি খোরশেদ আলম তার দুঃখ-দুর্দশা দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে পরামর্শ করে আঙ্গুরি বেগমের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। এর পর থেকেই নিয়মিত খোঁজ নিতে সাংবাদিক খোরশেদ আলম গুচ্ছগ্রামে যাওয়া-আসা করছিলেন।
এতেই ক্ষুব্ধ হয় গোমড়া ও সন্ধ্যাকুড়া এলাকার মাদক কারবারিদের একটি চক্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে একটি কিশোর গ্যাং। তারা প্রতিদিন ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক আনছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
মাদক ব্যবসায়ীদের দাবি, সাংবাদিকের পদচারণায় তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। খোরশেদ আলমকে সরাসরি কিছু বলতে না পেরে তারা আঙ্গুরি বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় আঙ্গুরি বেগমকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখে।
ঘটনার পর থেকে তাকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না, কেউ কথা বলছে না, এমনকি টিউবওয়েল থেকেও পানি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে ৮–১০ জন নারী-পুরুষ মিলে তাকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে মারধরও করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আঙ্গুরি বেগম বাদী হয়ে থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গুচ্ছগ্রামের অনেকেই জানিয়েছেন, এসব ঘটনার পেছনে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির মদদ রয়েছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন বলেন, বৃদ্ধা আঙ্গুরি বেগমের দেওয়া একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।