বিজ্ঞপ্তি ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একটি পুকুর লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল শাহিন খানের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট পুকুরটি অনুষদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত এবং এটি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পড়ে। পুকুরটি লিজ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনদের একজন গাড়িচালক শহরমুল্লক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো পুকুর, খাল বা কৃষিজমি লিজ দিতে হলে তা আগে প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। এরপর দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে লিজ প্রদান করা হয়—এমনটাই জানিয়েছেন কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানিক। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়ম না মেনে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাড়া শহরমুল্লককে পাঁচ বছরের জন্য বছরে মাত্র ছয় হাজার টাকায় পুকুরটি লিজ দেওয়া হয়েছে।
শহরমুল্লক এ বিষয়ে বলেন, “আমি আগে পুকুরটির পাশে থাকতাম এবং মাছ চাষ করতাম। সরে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা মাছ ধরে নেয়। পরে পুকুরটি আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়। এরপর ডিন স্যার বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করে আমাকে লিজ দেন।” তিনি দাবি করেন, পুকুর পরিষ্কারে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে এবং এখন তিনি কয়েকজন মিলে মাছ চাষ করছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—ডিন অফিস কি এমনভাবে জমি লিজ দিতে পারে? কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক মানিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো জমি এভাবে সরাসরি লিজ দেওয়া যায় না। নিয়ম মেনে আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।”
ডিন অধ্যাপক ইকবাল শাহিন খান বলেন, “শহরমুল্লক আগে থেকেই ওই জায়গায় ছিল এবং তার কিছু গাছও ছিল সেখানে। দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। আমরা বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রেজল্যুশনের মাধ্যমে তাকে লিজ দিয়েছি। আমরা ধারণা করেছিলাম এটি কলা অনুষদের আওতাধীন, পরে জানতে পারি এটি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, “আমি বিষয়টি জেনেছি। ডিন এবং কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে দেখা হবে।”