আধুনিক ক্রিকেটের বড় আকর্ষণ টি-টোয়েন্টি। বিশ্বের নানা প্রান্তে এই সংস্করণ ঘিরে গড়ে উঠেছে চমকপ্রদ সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামলে যেন গুটিয়ে যান টাইগাররা। ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারেন না অনেক সময়। এই জায়গায় পরিবর্তন আনতে চান বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফাহিম চাচ্ছেন বেশি রানের ক্রিকেট খেলুক বাংলাদেশ। ভালো উইকেটে প্রস্তুত হোক দল, খেলুক সাহসী ক্রিকেট। গতকাল তিনি মিরপুরে বলেছেন, 'যে কন্ডিশনে খেলা সেই কন্ডিশনে যেন প্রস্তুতি নিতে পারি। পাকিস্তানের বিপক্ষের এই সিরিজও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির একটা অংশ। ভারতের ভালো উইকেট বানানোর সক্ষমতা রয়েছে, ২০০ রানের উইকেট বানানোর সক্ষমতা রয়েছে। সেরকম উইকেটেই আমাদের খেলতে হবে। মিরপুরেও চেষ্টা থাকবে ভালো উইকেট বানানোর এবং রান যেন বেশি হয়।'
তবে আবহাওয়াজনিত সমস্যার কথাও জানালেন ফাহিম, 'আমাদের আবহাওয়া কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ সময় পিচ ঢেকে রাখতে হয়। তারপরও চেষ্টা থাকবে যেন ক্রিকেটাররা ভালো উইকেট পায়।' শ্রীলঙ্কা সফরে টাইগারদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক দেখছেন ফাহিম। দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বলেন, 'আত্মবিশ্বাসে ওঠা-নামা ছিল। যখন আস্থার অভাব ছিল, তখন আত্মবিশ্বাসও কমে গিয়েছিল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জেতার পরে দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে। এবার প্রথম টেস্টেও ভালো করেছে বাংলাদেশ দল। আবার সফরের শেষদিকেও নিজেদের ধরে রাখতে পেরেছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক।' তিনি আরও বলেন, 'এই মানসিক শক্তির জায়গাটা যদি খেলোয়াড়রা ধরে রাখতে পারে, তাহলে সামনের দিনে আরও ভালো করার সুযোগ তৈরি হবে।'
এদিকে আগস্টে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত সিরিজটি আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। তাই ঐ সময়টা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনায় বিসিবি। ফাহিম বলেন, 'আমরা ভেবেছিলাম, ঐ সময়টায় নিজেদের মধ্যে কিছু ম্যাচ আয়োজন করতে পারি কি না। এর আগেও জাতীয় দল 'এ' দলের সঙ্গে খেলেছিল। এখন আবার দেখা হচ্ছে, বাইরের কোনো দলের সঙ্গে খেলা সম্ভব কি না বা বাইরে গিয়ে ছোট পরিসরে কিছু ম্যাচ খেলা যায় কি না।'
তিনি স্পষ্ট করেন, 'যদি কোনো সুযোগ না মেলে, তাহলে ইন্টারনালি 'এ' দলের বিপক্ষেই খেলার চিন্তা আছে।' নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়েও মুখ খুলেছেন ফাহিম। তিনি জানিয়েছেন, 'আগেও যথেষ্ট যোগাযোগ হয়েছে। শান্ত এবং আমাদের দিক থেকে সবকিছু পরিষ্কার। আমরা শান্তকে চালিয়ে যেতে বলেছিলাম। যেহেতু সে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।'