দাগনভূঞার নেয়াজপুর আশ্রয়ণকেন্দ্রে নানা সমস্যা, অধিকাংশ ঘরে তালা

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর আশ্রয়ণকেন্দ্রে রয়েছে ৬৮টি ঘর। কিন্তু পানি সংকট, চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা, শিক্ষা ও বাজারসুবিধার অভাবে অনেক বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবার ঘরে না উঠে ভিন্নস্থানে বসবাস করছে। ফলে আশ্রয়ণকেন্দ্রের অন্তত ২৩টি ঘরে এখন তালা ঝুলছে, কিছু ঘরে থাকছেন ভাড়াটিয়া।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাতুভূঞা খালের পাড়ে নির্মিত এ আশ্রয়ণকেন্দ্রের অধিকাংশ ঘরের মেঝে ফেটে গেছে, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ৮টি নলকূপের মধ্যে সচল আছে মাত্র একটি। ফলে গোসলসহ অন্যান্য কাজে অনেককে নদীর পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

২৯৩ নম্বর ঘরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, এখানে স্কুল বা মাদ্রাসা নেই। সন্তানদের অনেক দূরে পাঠিয়ে পড়াতে হয়। হীরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনেকটা দূরে।

২৯৪ নম্বর ঘরের কোব্বাত আহমেদ বলেন, ঘরটি আমার ভাগিনার নামে বরাদ্দ। সে থাকেনা, আমি থাকি। আশপাশে দোকান নেই, বাজার করতে হয় অনেক দূরে বেকেরবাজার থেকে। রাস্তাঘাট খুব খারাপ।

২৮৫ নম্বর ঘরের ছেমনা খাতুন বলেন, স্বামী নেই। হাঁস-মুরগি বিক্রি করে চলি। সরকার ছাগল-হাঁস দেওয়ার কথা বলেছিল, পাইনি। গত বছরের বন্যায়ও কোনো সাহায্য পাইনি।

২৮৯ নম্বর ঘরের রাজমিস্ত্রি আব্দুল মোতালেব বলেন, পানি ও স্কুলের অভাবে খুব কষ্টে আছি। সন্তানদের নদীতে গোসল করাতে হয়।”

বাসিন্দাদের দাবি, আশ্রয়ণকেন্দ্রে নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে কাছের স্কুল হীরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলেও সেটি এত দূরে যে ছোট ছোট শিশুদের পক্ষে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য। এতে আশ্রয়ণকেন্দ্রের শিশুদের শিক্ষাজীবন ঝুঁকিতে পড়েছে।

অনেক পিতা-মাতা নিরক্ষর হওয়ায় তারা চান, অন্তত মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু হোক। যাতে তাদের সন্তানরা মৌলিক আক্ষরিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স.ম. আজহারুল ইসলাম বলেন, গভীর নলকূপ নিয়ে সমস্যা আছে—এখন জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য আশ্রয়ণকেন্দ্রের বাসিন্দাদের লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। আবেদন পেলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণের বছর না পেরোতেই অবকাঠামো দুর্বলতা, সঠিক তদারকি না থাকা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে আশ্রয়ণকেন্দ্র অনেকাংশে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত রাস্তাঘাট, পানি, শিক্ষা ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত না করলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে তারা মনে করছেন।