সাধারণত প্রথম দিনের অনুশীলন হয় হালকা মেজাজে। কিন্তু আবাহনীর কোচ মারুফুল হক যেন প্রথম দিনেই কড়া হেডমাস্টারের ভূমিকায়। প্রথম দিনেই কঠিন অনুশীলন করালেন। টানা ১ ঘণ্টা অনুশীলন করিয়েছেন। প্রীতম, শামীম, তন্ময়, মিরাজুল, সবুজ, শাকিল, আসাদুল, মোরসালিন, সাকির, বাবলু, পাপন সিং, সায়েম, আল আমিন, তারিকুল, ইফতিরা ঘেমে চৌচির। তিনবার ওয়াটার ব্রেক দিতে হয়েছে। মাঠের অবস্থা ভালো না। ঘাস কাটা হয়েছে আগের দিন।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবাহনীর মাঠে পানি জমে রয়েছে। এর মধ্যেও ফুটবলারদের কঠোর অনুশীলন দেখে মনে হচ্ছিল এক দিন পরেই ম্যাচ। প্রথম দিনেই এত কঠোরতা কেন? অনুশীলন শেষে কোচ মারুফুল হকের কাছে এমন প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, 'হাতে ২৬ দিন রয়েছে। খুব একটা বেশি সময় না। আমাকে দলটা গড়তে হলে দ্রুতই কাজ করতে হবে। অনেকই আসেননি। দুই এক দিনের মধ্যে এসে যাবেন। এ দেশের ফুটবলে প্রথম দিনের অনুশীলনে ফুল স্কোয়াড পাওয়া যায় না।'
দলটা কেমন হলো জানতে চাইলে মারুফ বলেন, 'আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। সবাই ফিরলে বলা যাবে। কে এলেন, আর কে এলেন না, সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আবাহনী এবার আন্তর্জাতিক ক্লাব ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করবে। বাড়তি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার শুরু করতে হচ্ছে। আবাহনী এ অবস্থা থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য টিম করে। যে সক্ষমতা সবসময় থাকে, সেটি অনেক সময় থাকে না। এর ভেতর থেকে খেলোয়াড়দের সেরাটা আদায় করে নিতে হয়। আবাহনীও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই করছে।'
আবাহনী মনে করে গত মৌসুমে আক্রমণভাগে ভালো খেলোয়াড় থাকার পরও দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল। এ কারণে মোরসালিন, আল আমিনদের মতো ফরোয়ার্ড নিয়ে এসেছে। তারা নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এখন আবাহনীতে এসেছে, তাদের প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে আল আমিন হচ্ছেন দেশি ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলবে। কোচ মারুফ এই দলটার অন্তত ১০টা ম্যাচ দেখেছেন। ফাঁকফোঁকর খুঁজে বের করেছেন।