‘ডন কো পাকাড়না মুশকিল হি নাহি, না মুমকিন হ্যায়’, অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘ডন’ ছবির এই সংলাপ সত্তর দশকের যুবকদের মুখে মুখে ফিরত। এ সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনকে ভিন্নরূপে উপস্থাপন করেছিলেন পরিচালক চন্দ্র বারোট। না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ‘ডন’খ্যাত নির্মাতা চন্দ্র বারোট।
রোববার (২০ জুলাই) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। এমনটা জানিয়েছেন তার স্ত্রী দীপা বারোট।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর ধরে ফুসফুসের সমস্যায় (পালমোনারি ফাইব্রোসিস) ভুগছিলেন সদ্যপ্রয়াত পরিচালক। ভর্তি ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই প্রয়াত হন তিনি।
১৯৭৮ সালে চন্দ্র ‘ডন’ পরিচালনা করেন।
পরিচালকের মুন্সিয়ানায়, অভিনেতাদের অভিনয়গুণে ছবিটি হয়ে উঠে কালোত্তীর্ণ। ‘ডন’-এর রিমেক-এ তাই অমিতাভের জুতায় পা গলানোর লোভ সামলাতে পারেননি শাহরুখ খান। ইতিমধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি শুরু করছেন ফারহান আখতার। যেখানে এবার ‘ডন’ হচ্ছেন রণবীর সিং।
কিন্তু চন্দ্র যখন প্রথম ‘ডন’ নির্মাণ করেন, সেটি খুব সহজে তৈরি করতে পারেননি। সে সময়ের বড় অভিনেতা দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র- ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালককে। ব্যতিক্রম অমিতাভ বচ্চন। যিনি পর্দায় ‘ডন’ হওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সেলিম-জাভেদ জুটি।
চন্দ্র বারোটের জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানজানিয়ায়। তিনি ছিলেন একজন ব্যাংকার। পরে ভারতে পাকাপাকি বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়াত পরিচালক-অভিনেতা মনোজ কুমারের পরামর্শে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি অভিনেতা-পরিচালক মনোজ কুমারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭০ সালে ‘পূরব অউর পশ্চিম’, ১৯৭২ সালে ‘ইয়াদগার’ ও ‘শোর’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘রোটি কাপড়া অউর মাকান’-এর মতো ছবিতে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
‘ডন’ পরিচালনার পর তিনি ১৯৮৯ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘আশ্রিতা’ পরিচালনা করেন। যা বক্স অফিসে ৩ কোটি টাকা আয় করেছিল। তার পরিচালিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘নীল কো পাকড়ানা ইম্পসিবল’ এবং ‘হংকং ওয়ালি স্ক্রিপ্ট’। ১৯৯১ সালে তিনি ‘প্যায়ার ভরা দিল’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।