চাঁদা না দেওয়ায় রাজবাড়ীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের লিফট স্থাপনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজবাড়ীর অফিসার ক্লাবে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় হাসপাতাল নির্মাণ কাজের অগ্রগতি জানতে চান জেলা প্রশাসক।
সভায় রাজবাড়ীর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকলেও সভায় অংশ নেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
এ সময় তিনি জানান, লিফট স্থাপন কাজে চাঁদাবাজদের হুমকির মুখে কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিকবার ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এক গ্রুপ চাঁদা নেওয়ার পর আরেক গ্রুপ এসে চাঁদা দাবি করে, এতে ঠিকাদারদের পক্ষে কাজ চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে হাসপাতালের এসি, আউটডোরের মালামাল চুরি হয়েছে। কাজের সাইটে হানা দিয়ে চাঁদাবাজরা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং লিফটের কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন। সেই চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ইনচার্জ, রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে ।
নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে গত ২১ জানুয়ারি গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে সদর থানার ওসিকে আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়, যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ৮ থেকে ১০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় ঢুকে চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। নিরাপত্তার অভাবে মালামাল ও শ্রমিকদের ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শঙ্কর ঝন্টু বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে মানবিক জায়গা হলো হাসপাতাল। সেখানে চাঁদা চাওয়া শুধু বেআইনি নয়, এটি মানবতাবিরোধী কাজ। সরকার ও প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা।
চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। রাজবাড়ীতে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে ৩ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের লিফট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।