পাকিস্তানের কোচকে ‘থার্ড ক্লাস’ কোচ বললেন দেশটির সাবেক বোলার

গত মে মাসে ঘরের মাঠের সিরিজে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এবার বাংলাদেশ সফরে এসে একই ফলাফলের সামনে দাঁড়িয়ে মেন ইন গ্রিনরা। তবে এবার বিজয়ী দলের নাম বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মিরপুরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও ৮ রানের জয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেলেই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ উপহার দেবে লিটন দাসের দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে মিরপুরের উইকেটকে দায় দিয়েছিলেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন।

বাংলাদেশের কাছে টানা দুই টি-টোয়েন্টি হেরে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। মিরপুরে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দেয়া ১৩৪ রানের জবাব দিতে নেমে ১২৫ রানে অলআউট হয় সফরকারী পাকিস্তান।

জাতীয় দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচ মাইক হেসনের কট্টর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার তানভির আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এটিকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বাজে টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স আখ্যা দিয়ে কোচ হেসনের দায়ী করেছেন পাকিস্তানের হয়ে ৫টি টেস্ট ও ২টি ওয়ানডে খেলা ৪৬ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার।

তিনি লিখেছেন, 'মাইক হেসন একজন থার্ড ক্লাস (তৃতীয় শ্রেণির) কোচ, যিনি এমনকি জানেন না কীভাবে ঠিকঠাক একাদশ নির্বাচন করতে হয়।'

এরপর দুই স্পিনার আবরার আহমেদ ও সুফিয়ান মুকিমকে না খেলানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তানভির, 'আবরার আহমেদ ও সুফিয়ান মুকিম নেই। এদেরকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত ঠিক নাকি ভুল?'

এই সাবেক প্রশ্ন তুলেছেন বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের না থাকা নিয়েও, 'আজকের ম্যাচের দায়ভার বাবর আজম আর রিজওয়ানের, কারণ যদি ওরা দুজন থাকতো তাহলে নিজেদের জন্য পুরো ২০ ওভার খেলতো আর পাকিস্তান ম্যাচটা জিতে যেত। কারণ নিন্দুকরা বলে ওরা নিজেদের জন্য খেলে — এখন এই ছেলেরা খেলুক, কে মানা করেছে?'

গতকাল বাংলাদেশের দেয়া ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের মাত্র চারজন খেলোয়াড় দুই অঙ্কের রানের দেখা পেয়েছেন। ব্যাটিং পজিশনের ওপরের ছয়জনের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। তিনজন তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আট নম্বরে নামা ফাহিম আশরাফের ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পেরেছে তারা। ৩২ বলে ৪টি করে চার ও ছয়ে ৫১ রান করেন আশরাফ। তার সঙ্গী হয়ে খুশদিল ১৩, আব্বাস আফ্রিদি ১৯ ও আহমেদ দানিয়াল ১৭ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। শেখ মেহেদী ও তানজিম সাকিব ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের ঝুলিতে যায় ১টি করে উইকেট।