এপস্টেন নথিতে ট্রাম্পের নাম: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উঠে এসেছে বিতর্কিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেন সংক্রান্ত তদন্ত নথিতে। মে মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তাকে এ বিষয়ে অবহিত করেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর ইতোমধ্যেই বিতর্কে জর্জরিত ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে পড়ে গেছে।

বিশেষ করে এপস্টেন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পপন্থীদের একাংশ নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে আসছিল, যা এখন উল্টো তাদেরকেই বেকায়দায় ফেলতে পারে। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রাথমিকভাবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, কিছু নথিতে ট্রাম্পের নাম থাকার বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে পাম বন্ডি রক্ষণশীল প্রভাবশালীদের জন্য তৈরি কিছু উপকরণে ট্রাম্পের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে ট্রাম্প ও এপস্টেনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এপস্টেনের ব্যক্তিগত বিমানের যাত্রী তালিকায় একাধিকবার ট্রাম্পের নাম দেখা গেছে। এমনকি, ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের নামও পাওয়া গেছে এপস্টেনের ‘কনট্যাক্ট বুক’-এ, যেখানে শত শত নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্যের বড় অংশই গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল মামলার সময় প্রকাশিত হয়। ম্যাক্সওয়েল শিশু পাচার এবং যৌন নিপীড়নের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

ম্যাক্সওয়েলের বিচারকালে এপস্টেনের সাবেক পাইলট আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ট্রাম্প একাধিকবার এপস্টেনের বিমানে ভ্রমণ করেছেন। যদিও ট্রাম্প বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ের এক মেমোতে জানানো হয়েছে, এপস্টেন মামলায় নতুন করে কোনো তদন্ত চালানোর প্রয়োজন নেই। এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পপন্থী অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এপস্টেন সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশের অঙ্গীকার ছিল। সমর্থকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে হতাশ, কারণ তারা মনে করছেন, তথ্য গোপন করা হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, 'নথিগুলো পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি, এমন কিছু নেই যা নতুন করে তদন্ত বা অভিযোগ আনার মতো।' তারা আরও জানান, গ্র্যান্ড জুরি সাক্ষ্য প্রকাশে আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং সেই ফলাফল প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, হাউস স্পিকার মাইক জনসন মঙ্গলবার হঠাৎ করেই গ্রীষ্মকালীন ছুটি একদিন এগিয়ে দেন, যাতে এপস্টেন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়ে ভোট এড়ানো যায়। তবে বুধবার হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি উপকমিটি সর্বসম্মতিক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে সব এপস্টেন-সংক্রান্ত নথির জন্য সমন জারির অনুমোদন দেয়, যেখানে রিপাবলিকান সদস্যরাও সমর্থন দিয়েছেন।

রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টেনের ক্লায়েন্টদের তথ্য গোপন করছে।