থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত ছেড়েছে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দা

থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার সৈন্যদের মধ্যে শুক্রবার (২৫ জুলাই) দ্বিতীয় দিনের মতো প্রাণঘাতী লড়াই অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, চলমান লড়াই থেকে দুই দেশকে পৃথককারী সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী ১ লাখ ২০ হাজারেও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ১৫ জন এবং কম্বোডিয়ায় একজন নিহত হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘর্ষের সময় আজ উভয় দেশ ভারী কামান এবং রকেট হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার এক 'অশুভ বার্তায়' থাই প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বলেন, 'পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে এবং যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।' তিনি প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সংঘর্ষে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে থাই সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি বলেন, আজ বিতর্কিত সীমান্তের '১২টি স্থানে চলমান সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে'। যেখানে আগের দিন ৬টি স্থানে সংঘর্ষ চলেছে। এই বৃদ্ধি সংঘর্ষ বিস্তৃতির ইঙ্গিত দেয়।

কংসিরি বলেন, কম্বোডিয়া ভারী অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। 'কৌশলগত পরিস্থিতি অনুসারে থাই বাহিনী যথাযথ সহায়ক গুলি চালিয়ে জবাব দিয়েছে।'

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী চারটি থাই প্রদেশের প্রায় ১ লাখ ৬৭২ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

থাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আরসিত সাম্পানথারাতকে উদ্ধৃত করে দেশটির চ্যানেল ৩ টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, সরিয়ে নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি সুরিন প্রদেশের, বাকিরা সিসাকেট, বুড়িরাম এবং উবোন রাতচাথানি প্রদেশের।

অপরদিকে, কম্বোডিয়ার প্রিয়াহ ভিহিয়ার প্রদেশের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে খেমার টাইমস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত উত্তর সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার কম্বোডিয়ান সীমান্তের কাছে সুরিন প্রদেশ থেকে রিপোর্ট করতে গিয়ে আল জাজিরার সাংবাদিক টনি চেং বলেছেন, এখানে কতজন লোক উচ্ছেদ কেন্দ্রে আছে, তা দেখা ও বলা খুব কঠিন...কারণ সব সময় মানুষ আসছে।