সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে ‘সমান্তরাল সরকার’ ঘোষণা, গৃহযুদ্ধে নতুন মোড়

সুদানে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের ২৭ মাসে এসে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নেতৃত্বের জোট একটি 'সমান্তরাল সরকার' ঘোষণা করেছে। সরকারে কারা সদস্য হবেন, তাদের নামও জানানো হয়েছে। এটি দীর্ঘদিনের যুদ্ধকবলিত দেশটিকে আরও বিভক্তির দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরএসএফ নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালোকে প্রেসিডেন্ট পরিষদের প্রধান ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'এসপিএলএম-এন'-এর প্রধান আবদেল আজিজ আল-হিলুকে ১৫ সদস্যের কাউন্সিলে দাগালোর ডেপুটি করা হয়েছে।

দারফুর অঞ্চলের বৃহত্তম শহর নিয়ালা থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ হাসান আল-তাইশিকে সমান্তরাল সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করা হয়। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক গভর্নরদের নাম ঘোষণা করা হয়, যার নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগই আরএসএফের হাতে রয়েছে।

সুদানের সেনাবাহিনী দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে আধাসামরিক বাহিনীকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে মধ্য-পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চল এবং দারফুরের ঐতিহ্যবাহী রাজধানী আল-ফাশির নিয়ে মারাত্মক লড়াই চলছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে আরএসএফ এবং তার মিত্র রাজনীতিবিদ ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একটি 'ধর্মনিরপেক্ষ নতুন সুদান'-এর জন্য একটি সরকার গঠনে সম্মত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং উন্নত অস্ত্র আমদানি নিশ্চিত করা।

শনিবার এই সরকার ঘোষণা করেছে, দৃঢ়ভাবে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর জন্যও গভর্নর নিযুক্ত করা হয়েছে।

পেশাজীবী সেনা কর্মকর্তা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী আরএসএফের সমান্তরাল সরকার গঠনের ধারণার নিন্দা জানিয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সুদানের পুরো নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

২০১৯ সালে প্রবীণ শাসক ওমর আল-বশিরের ক্ষমতাচ্যুতির পর পূর্বে দুই বাহিনী ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছিলেন। তবে ২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের ফলে বেসামরিক রাজনীতিবিদরা ক্ষমতাচ্যুত হন, যা যুদ্ধের সূত্রপাত করে।

২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একজন প্রধানমন্ত্রী এবং স্থায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ করেছে।

জাতিসংঘের মতে, চলমান সংঘাত সুদানকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটিতে এক অভূতপূর্ব মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার প্রাণহানির পাশাপাশি দেশের অর্ধেক মানুষ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে।