বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: বাঁশখালীর দুই জেলে নিখোঁজ, চার দিনেও সন্ধান নেই

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

নিখোঁজদের মধ্যে একজন হলেন বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকার মৃত আমিন উল্লাহর ছেলে মো. জহির মিয়া (৩৮)। অপর জেলের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জেটিঘাট থেকে ১০ জেলের একটি দল আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলারে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। রাতের বেলা কুতুবদিয়া চ্যানেল অতিক্রম করার সময় একটি বড় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা সবাই সাগরে পড়ে যান।

পরে অন্য ট্রলার ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও বাকি ২ জনের খোঁজ এখনো মেলেনি।

নিখোঁজ জহির মিয়া প্রায় ৯ মাসের চুক্তিতে ওই ট্রলারে জেলে হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও ৫ সন্তানসহ মোট ৮ জন সদস্য রয়েছে।

জহিরের চাচাতো ভাই বেলাল উদ্দিন বলেন, চারদিন ধরে খোঁজ নেই। পুরো পরিবার শোকে বিহ্বল। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—উদ্ধার অভিযান যেন জোরদার করা হয়।

বাংলাবাজার বোট মালিক সমিতির সভাপতি হেফাজ উদ্দিন বলেন, ট্রলারটি গভীর সাগরে একটি বড় জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার তৎপরতা চালালেও নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তবে কুতুবদিয়া চ্যানেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট প্রশান্ত জানান, “চারদিন পর আমরা প্রথমবারের মতো ঘটনাটি জানতে পারি। আমাদের টহল টিম নিয়মিত সাগরে থাকলেও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এখন আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, ট্রলার চলাচল ও জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে যথাযথ নজরদারি নেই। দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেও উদ্ধার তৎপরতা বিলম্বিত হয়েছে বলে অনেকের দাবি।