মেয়াদোত্তীর্ণ বাস উচ্ছেদে অভিযান, পরিবহন নেতাদের বাধা

পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় বাস ও ট্রাক সড়ক থেকে উচ্ছেদে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ালেন সড়ক পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকনেতারা। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইনের সাজা শিথিল করার জন্যও চাপ দিচ্ছেন তারা। দাবি না মানলে ধর্মঘটের মাধ্যমে পরিবহন খাত অচল করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

রোববার (২৮ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলন তারা সরকার বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বাণিজ্যিক যানবাহনের যে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ ও ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে, তা বাড়িয়ে ৩০ বছর করাসহ আট দফা দাবি জানায়। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায়ে সাজার যে ধারা রয়েছে, তা সংশোধন করতে হবে। দাবি না মানলে আগামী ১২ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, মহাসচিব সাইফুল আলম প্রমুখ। তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শ্রমিকনেতাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান। এর মধ্যে হুমায়ুন কবির খান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহশ্রমবিষয়ক সম্পাদক। আর আবদুর রহিম বক্স শ্রমিক দলের সহসভাপতি।

আওয়ামী লীগের আমলে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান। আর মালিক সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টির নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালের মে মাসে এক প্রজ্ঞাপনে বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের ২৫ বছর নির্ধারণ করে। এসব যান উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। উল্টো একই বছরের আগস্টে প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপে তৎকালীন সরকার পিছু হটে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৬ জুন পুরোনো যানবাহনের বয়সসীমার আগের প্রজ্ঞাপনটি বহাল করে। পাশাপাশি এসব যান সড়ক থেকে উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০ জুলাই অভিযান শুরু করে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, দেশে পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের সংখ্যা ৮০ হাজার ৩০৯।