কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠটি মাসব্যাপী মেলার পর আর সংস্কার না হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ওই মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করা কুষ্টিয়া হাইস্কুল এবং পাশের ফালাহুল উলুম দারুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশ নারী কল্যাণ সংস্থা (পুনাক)–এর সভাপতির আবেদনে জেলা প্রশাসন ওই মাঠে মাসব্যাপী শিল্পপণ্য মেলার অনুমোদন দেয়। যদিও অনুমোদন পুনাকের নামে হলেও বাস্তবে মেলা আয়োজন করে ব্যবসায়ী মহল।
মেলায় শতাধিক স্টল, পানির ফোয়ারা, উঁচু লাইট টাওয়ার, অফিস কক্ষ, শিশুদের বিভিন্ন রাইডসহ মাঠের মাঝখানে বড় আকারের কাঠামো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় মেলা বন্ধ হয়ে যায়। স্টলগুলো অপসারণ করা হলেও মাঠের মাঝখানে ইটের গাঁথুনি, ভাঙা কাঠামো এবং গর্তগুলো আজও রয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা কাদার কারণে মাঠটি এখন অচল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
মাঠ সংস্কারের জন্য আয়োজকদের দেওয়া অর্থ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকলেও এখনো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সোহরাব হোসেন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবু দাউদ বলেন, গত ৫-৬ মাস ধরে আমরা খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছি না। মাঠের এমন দশা দেখে খুবই কষ্ট হয়। দ্রুত সংস্কার করে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।
জানতে চাইলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মেলা আয়োজকদের দেওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছুটিতে বিদেশে রয়েছেন। তিনি আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দায়িত্বে ফিরলে মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া কোর্টপাড়ার বাসিন্দা ও আইনজীবী মো. শরিফুল আলম কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে মাঠ অপরিহার্য। মাঠটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, “খেলার মাঠ বন্ধ করে মেলা আয়োজনে শিক্ষার্থী ও শহরবাসীর ক্ষোভ” শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পরে মেলার আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যায়। তবে মাঠ সংস্কারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।